খুলনায় এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে ভাত খেয়ে ফেলায়; তাঁরই মেসের অন্য সদস্যরা পিটিয়ে, এরপর ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলেছে।
এটির অবস্থান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হল গেটের ঠিক বিপরীতে। এটি পাঁচতলা একটি ভবন। এই ভবনের মালিকের নাম আকিব। তিনি পুরো বিল্ডিংটাই ছাত্রদের মেস হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন । যে ছেলেটাকে মেরে ফেলা হয়েছে, তাঁর নাম আজমল। সে থাকতো চার তলায়। বাড়ির মালিক আকিব বলেছেন
– চারতলায় আজমল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এবং বর্তমান কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে থাকতো।
মেসে যে রকম হয় আরকি- ধরেন আপনি যে বেলা খাবেন। মানে ধরেন রাতের খাবার যদি খান, দুপুরে বলে দিতে হয়- আমার “মিলটা (খাবারটা) যেন রান্না করা হয়।” এই ছেলে হয়ত ওই বেলায় মিলের কথা না বলেই ভাত খেয়ে ফেলেছিল। তবুও আমি ধরে নিলাম- এই ছেলের কাছে হয়ত টাকা ছিল না। কারন সে তাঁর বাবার কাছে ওই দিনই টাকা চেয়েছিল।
হয়ত টাকা না থাকার কারনে মিলের কথা না বলেই ভাতটা খেয়ে ফেলেছে। এরপর ছেলেটার সাথে থাকা অন্যরা তাঁকে ছাদে নিয়ে পিটিয়েছে। চুল কেটে দিয়েছে। তারপর হয় ছাদ থেকে ছেলেটা পড়ে গেছে কিংবা ওকে ফেলে দেয়া হয়েছে। তো, ছেলেটাকে কারা মেরে ফেলেছে?
খুলান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান কিছু শিক্ষার্থী। যারা ওর সাথেই থাকতো। এই ছেলের বাবা আজ বলেছে
– আমার কোনো অভিযোগ নাই, আল্লাহর কাছে বিচার দিসি।
তবে যে কারনে আমার এই লেখার অবতারণা। একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে মেরে ফেলা হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক পাশেই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে কি দেখছেন আন্দোলন করতে? কাউকে কি দেখছেন, রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে বিচারের দাবি করতে? কিংবা কাউকে কি দেখছেন, প্রাশনের কাছে জবাব চাইতে?
দেখবেন না। কারন যে ছেলে মরে গেছে, সে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না। আজকে যদি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্রের কপালে এই ঘটনা ঘটতো। নিশ্চিত জেনে রাখুন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী – চিৎকার করে বিচার চাইতো। ওদের ক্যাম্পাস বন্ধ করে দিত। এমনকি বাংলাদেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও হয়ত রাস্তায় নেমে যেত। কেন এর কিছুই হলো না ?
কারন ওই ছেলে তো ওদের কেউ না। পড়ে একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটাই আমাদের এলিট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা। বিশ্বাস করেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুরোপুরি সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যার নেতৃত্বে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এদের কাজ বুর্জোয়া তৈরি করা।
এরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সচিব-আমলা তৈরি করে। এই যে বাংলাদেশটাকে যুগের পর যুগ ভাগাড় বানিয়ে রাখা হয়েছে। কারা ভাগাড় বানিয়ে রেখেছে?
এইসব এলিট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই কিন্তু ওই সচিবালয়ে যায়। ওই মেসে যারা থাকে, এরাই এরপর বিসিএস দিয়ে কেউ ম্যাজিস্ট্রেট হবে, কেউ পুলিশ হবে, কেউ সচিব হবে। আমাদের এলিট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মানুষ তৈরি করে না । এরা তৈরি করে দানব।
