সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম ট্রোলিংয়ের শিকার হওয়া সেই শিক্ষিকাই— জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। আজ নিজের যোগ্যতার প্রমান দিয়ে অর্জন করে নিলেন শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান!
মনে আছে বিউটি রাণী পালের কথা?
জনপ্রিয় এক গানের সুরের সাথে শাড়ি পরে স্কুলের বারান্দায় একটু হেঁটেছিলেন—
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।
শখের বশে বানিয়ে ফেসবুকে দেওয়া সেই ছোট্ট ভিডিওটি—
মুহূর্তের মধ্যেই ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু আমাদের অনলাইন দুনিয়ার একদল তথাকথিত নীতি পুলিশ—
বিষয়টিকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি!
শুরু হয় তীব্র সাইবার বুলিং, ট্রোলিং আর যাচ্ছেতাই কটূক্তি।
“শিক্ষিকা হয়ে কেন ভিডিও বানিয়ে হাঁটবেন?”—এমন হাজারো নীতিকথা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ট্রোলাররা!
তবে এই অন্যায়ের মুখে দেশের অজস্র সচেতন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ—
বিউটি রাণীর পাশে এসে শক্ত হয়ে দাঁড়ান!
তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—শিক্ষকদেরও একটা নিজস্ব জীবন আছে,
এবং সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে আনন্দ প্রকাশ করার পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে!
এমনকি শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়—
খোলা বাতাসে দাঁড়িয়ে নিজের মতো করে আনন্দ প্রকাশ করার মধ্যে কোনো ধরনের অপরাধ নেই।
সব নেতিবাচক সমালোচনা আর বিষাক্ত মন্তব্যকে পেছনে ফেলে—
নিজের সততা ও মেধার জোরে তিনি সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন!
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই শিক্ষার্থী—ক্লাসরুমে নাচ, গান ও আনন্দের মধ্য দিয়ে শিশুদের পড়া সহজ করে তোলার জন্য ভীষণ পরিচিত ও প্রিয়।
ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ট্রোলাররা যতই ঘৃণা ছড়াক না কেন—
একনিষ্ঠ কাজ আর নিষ্ঠার সঠিক মূল্যায়ন যে কখনো আটকে রাখা যায় না,
বিউটি রাণী পাল তা আবারও হাতেনাতে প্রমাণ করে দিলেন
