“প্রিয় বাবা,
আজ তোমার ৮০তম জন্মদিন। সারাটা দিন মানুষ তোমাকে নিয়ে কত সুন্দর সুন্দর কথা লিখেছে, সেগুলো পড়েছি। খুব গর্ব হচ্ছে তোমাকে নিয়ে। আবার ভীষণ কষ্টও হচ্ছে এই ভেবে যে, আজকের এই বিশেষ দিনটায় তুমি একা…
ইচ্ছে করে সবাইকে বলি, তুমি তোমার ভক্তদের কতটা ভালোবাসতে, নীলফামারীর মানুষের জন্য কতটা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছ। অথচ নিজের ভালো কাজের কথা কখনো বলতে দিতে না।
কিন্তু আমার কাছে তুমি সবার আগে আমার বাবা। সেই মানুষটা, যিনি রাতে ঘুম না এলে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন, লুকিয়ে আইসক্রিম খাওয়াতেন, আর আমি বাড়ি ফিরলেই আমার পছন্দের মাছ কিনতে নিজে বাজারে যেতেন। আমার স্বাধীনতাকে সম্মান করেও আমাকে সারাজীবন ছোট্ট মেয়ের মতো আগলে রেখেছেন।
গত ২ বছর ধরে তুমি আমাকে বারবার সাহসী হতে, ভালো থাকতে, আশাবাদী হতে বলেছ। প্রতিদিন চেষ্টা করি, যদিও খুব কঠিন। তবু আজ তোমার জন্যই আশা রাখতে চাই। বিশ্বাস করতে চাই, ন্যায়বিচার হবে, নির্দোষরা মুক্তি পাবে, আর মানবিকতা জয়ী হবে।
আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন আবার বাড়ি ফিরে তোমার পড়ার ঘর থেকে ভেসে আসা সেই চেনা কণ্ঠ শুনতে পাব। উঁকি দিয়ে দেখব, তুমি তোমার সেই পুরোনো জায়গায় বসে নিজের মনে প্রিয় কবিতাগুলো আবৃত্তি করছ। আর তোমার পায়ের কাছে সুন্দরী লেজ নাড়ছে।
সেদিন হয়তো আবার বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারব।
শুভ ৮০তম জন্মদিন, বাবা। তোমাকে খুব ভালোবাসি। তোমাকে ভীষণ মনে পড়ে।
