নিউ দিল্লি, ১০ নভেম্বর ২০২৫: রাজধানীর ঐতিহাসিক লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর কাছে সোমবার সন্ধ্যায় একটি পার্ক করা গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, যা আগুনের সৃষ্টি করে এবং চেইন রিয়্যাকশনের ফলে আশপাশের একাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক আহতের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই সারা দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।
দিল্লি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা এএনআই-কে বলেছেন, “লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়, যার ফলে তিন-চারটি গাড়িতে আগুন লেগে যায়।” বিস্ফোরণের পর ঘন ধোঁয়া এবং অগ্নিকাণ্ড এলাকাটিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এএনআই-এর সূত্র অনুসারে, বিস্ফোরণের ফলে এলএনজেপি হাসপাতালে একাধিক লাশ ও আহত বহন করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিস্ফোরণটি একটি পার্ক করা গাড়িতে শুরু হয় এবং তারপর আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের তিন-চারটি যানবাহনকে পুড়িয়ে দেয়। কর্তৃপক্ষগুলো এখনও কারণ নির্ণয় করতে ব্যস্ত—এটি দুর্ঘটনা হতে পারে বা জঙ্গি হামলার ফলাফলও হতে পারে।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল, ফরেনসিক টিম এবং বোম ডিসপোজাল স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলেছে। সাতটি ফায়ার ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে আগুন নেভানোর জন্য, এবং তদন্তে সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার আগে দিল্লি পুলিশ একটি সন্দেহজনক ঘটনায় হরিয়ানা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ অভিযানে কাশ্মীরি ডাক্তার মুজাম্মিলকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি হরিয়ানার ধৌজের আল ফালাহ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। তার ভাড়া বাড়িতে ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (বিস্ফোরক উপাদান) এবং অস্ত্রশস্ত্রের একটি বড় ভান্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফরিদাবাদ পুলিশ কমিশনার সতেন্দর কুমার গুপ্তা বলেছেন, “এটি আরডিএক্স নয়, কিন্তু অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সন্দেহ করা হচ্ছে। আসামি শ্রীনগরে নিষিদ্ধ জৈশ-ই-মোহাম্মদের সমর্থনে পোস্টারের সঙ্গে যুক্ত।” হরিয়ানা মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি বলেছেন, “দোষীদের কোনো ক্ষমা করা হবে না।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি:
সারা দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট, সংবেদনশীল স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পাহারা।
পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা চলছে।
ফরেনসিক টিম বিস্ফোরণের কারণ নির্ধারণ করছে।
স্থানীয়রা ভয়ে আতঙ্কিত। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “শব্দ এত প্রচণ্ড ছিল যে মনে হলো সব শেষ।” এই ঘটনা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ জাগিয়েছে, বিশেষ করে লালকেল্লার মতো ঐতিহাসিক স্থানের কাছে। তদন্ত চলছে—এটি দুর্ঘটনা নাকি সন্ত্রাসী কাজ, সেটা ফরেনসিক রিপোর্টে স্পষ্ট হবে। (সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, এএনআই, দিল্লি পুলিশ)
