ড. লুবনা ফেরদৌসী
শিক্ষক ও গবেষক, ইংল্যান্ড
আপনি কি কল্পনা করতে পারেন, আবাসিক মাদ্রাসার ১৩ বছরের এক মেয়ে নিজের মৃত্যুশয্যায় নার্সকে বলতে বাধ্য, “হুজুর বোরকা পরে এসে রাতে আমাকে রুম থেকে নিয়ে গেছে, তারপর রাতভর খারাপ কাজ করেছে”?
এই একটিমাত্র বাক্যের ভেতরে ধরা পড়ে আমাদের দেশের মেয়েদের আবাসিক মাদ্রাসার পুরো অদৃশ্য ইকোসিস্টেম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নাতীত ক্ষমতা, সংগঠিত যৌন সহিংসতার আড়াল, তদন্তব্যবস্থার নৈতিক পতন, এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীরব আপস। এখানে পুরো কাঠামোই সহঅপরাধে জড়িয়ে আছে।
মাদ্রাসার ভেতরে এই system-level sexual abuse এর saga কতবার সামনে আসবে, আর কতবার লিখতে হবে, তার কোনো শেষ নেই।অথচ প্রতিবারই ঘটে একই দৃশ্য, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষা, ভুক্তভোগীকে দোষারোপ, প্রমাণ চাপা দেওয়া, তদন্তের ব্যর্থতা, সামাজিক চাপ। আর রাষ্ট্র? বছরের পর বছর উদাসীন, political convenience এর কাছে দমিত, আমলাতান্ত্রিক জড়তাতে আটকা। এই চক্র institutionalized হয়ে গেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন গত বছর ক্ষমতায় না থেকে লন্ডনে ছিলেন, তখন ছোট্টো মেয়ে আছিয়ার ধর্ষণ নিয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, দলীয় কর্মী পাঠানো, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা, ফোনে সরাসরি কথা বলে আশ্বাস। একই urgency, একই priority আমি এখানেও দেখতে চাই। এই ১৩ বছরের মেয়েটির মা কোথায় তার জন্য ফোন পাবেন? সহায়তা পাবেন?
আমাদের দেশে বোরকা, পর্দা, আলাদা আবাসন, শালীনতা, সবই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু বাস্তবতা? বোরকা এখানে disguise। camouflage। institutional immunity। মেয়েদের নিরাপত্তার নামে যে আবরণ এই আবাসিক মাদ্রাসায় তৈরি করা হয়, সেই আবরণই ব্যবহার করা হয় তাদের অসুরক্ষিত করার জন্য। এর চেয়ে বড় সামাজিক ব্যঙ্গ আর কী হতে পারে?
তারপর আসে আরও পরিচিত বাক্য, “ছাদ থেকে পড়ে গেছে।”
আসলেই তো বাংলাদেশে মেয়েরা খুব সহজেই ছাদ থেকে পড়ে যায়। আগুনে পুড়ে যায়। গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে যায়, বিষ খেয়ে মরে, অসুস্থ হয়ে পড়ে। আত্মহত্যা করে। দুর্ঘটনায় মারা যায়। কিন্তু ধর্ষিত হয়েছে? ওহ, সেটা তো শোনা যাবে না। কারণ ধর্ষণ মানে এইখানে একজন হুজুরকে accountable বানানো, একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করা। সেটাতো করা যাবেনা।
তাই প্রথম কাজ হয়, না চিকিৎসা, না পুলিশে রিপোর্ট, প্রথম কাজ হয় narrative control। কীভাবে ঘটনাটাকে দুর্ঘটনা বানানো যায়। কীভাবে পরিবারের সামনে মিথ্যা প্রতিষ্ঠা করা যায়। কীভাবে প্রতিষ্ঠানের বদনাম ঠেকানো যায়।
আমি সবসময় বলি, প্রথম অপরাধ ঘটে শরীরের বিরুদ্ধে, কিন্তু দ্বিতীয়টি ঘটে সত্যের বিরুদ্ধে। আর এই দ্বিতীয় অপরাধটাই অনেক ভয়াবহ।
ধর্ষক যদি হুজুর হয়, পুরো institution হয়ে যায় accessory। cover-up becomes collective morality। সবাই জানে, কেউ কিছু বলে না। সবাই দেখে, কিন্তু ভাষা বদলে ফেলে। ধর্ষণ হয়ে যায় দুর্ঘটনা। dying declaration হয়ে যায় ‘ভুল বোঝাবুঝি।’
সবচেয়ে ভয়াবহ অংশ হলো, মেয়েটিকে চিকিৎসা করা নারী চিকিৎসক বলেছেন, তার যৌনাঙ্গ এবং পায়ুপথে মারাত্মক ধর্ষণের আলামত ছিল। অর্থাৎ শরীর নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছে।
অথচ পুলিশের রিপোর্ট, “হাতে ইনজুরি হয়েছে” !!
Seriuosly?? medical reality vs investigative report, এটা কি coincidence? না deliberate manipulation? আর সেই মেয়েটি, শারীরিকভাবে দুর্বল, সামাজিকভাবে একা, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাও প্রায় নেই, সে দাঁড়িয়ে আছে চরম অসহায়তার মধ্যে।
এই কিশোরী মেয়েটি ধর্ষণের ফলে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে, মাদ্রাসা কতৃপক্ষ হাসপাতালে ভর্তি করায়। মেয়েটির পরিবারকে বলে মেয়েটি মাদ্রাসার ছাঁদ থেকে পড়ে গিয়েছে, কয়েকদিন পর মেয়েটির মৃত্যু হয়।
এখানেই প্রশ্ন রাষ্ট্রের। ডাক্তার evidence দেখলেন, তদন্তে তা অদৃশ্য হয়ে গেল। যদি medical evidence forensic truth হয়ে দাঁড়াতে না পারে, যদি dying declaration প্রশাসনিক ভাষায় অদৃশ্য হয়ে যায়, তাহলে বিচারব্যবস্থা actively complicit। তখন রাষ্ট্র অপরাধীকে ধরছে না, রাষ্ট্র অপরাধের ভাষা বদলে দিচ্ছে। ধর্ষণকে ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া বানাচ্ছে। evidence কে paperwork দিয়ে হত্যা করছে।
আপনি কি ভাবছেন, এটা তো একটিমাত্র ঘটনা। ভুল ভাবছেন। সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, কুষ্টিয়া, ফেনী, প্রায় একই pattern। অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ, প্রাতিষ্ঠানিক ধামাচাপা, সামাজিক প্রতিশোধ, সব মিলেই এক ধরনের পুনরাবৃত্ত দুঃস্বপ্ন তৈরি করছে।
নরসিংদীর রায়পুরায় ১০ বছরের এক আবাসিক ছাত্রী, রাতে নির্যাতনের পর অসুস্থ হয়ে পড়ে, পরে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠানো হয়। কেন? পরিবারকে সঙ্গে সঙ্গে জানানো হলো না কেন? সরাসরি হাসপাতালে না নিয়ে অন্যত্র পাঠানো হলো কেন? কারণ institution প্রথমে শিশুকে বাঁচাতে চায় না; scandal manage করতে চায়। শিশুর শরীর secondary, প্রতিষ্ঠানের reputation primary।
নোয়াখালীর হেফজ পড়ুয়া কিশোরীর ঘটনায় পরিবার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিল। বিচার হয়নি। উল্টো তৌহিদি জনতার নামে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা হয়েছে, বাড়িঘর ভাঙা হয়েছে। এখানে মব খালি জনতা করছে না, এটা হয়ে গেছে patriarchal religious enforcement mechanism। হুজুরের বিরুদ্ধে গেলে তোমার সামাজিক অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ফেনীর নুসরাতের ঘটনা এই সংস্কৃতির সবচেয়ে নির্মম প্রতীক। সে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিল, আর তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। তাকে শুধু হত্যা করা হয়নি; তাকে example বানানো হয়েছিল। যেন অন্য মেয়েরা দেখে শেখে, speak, and you die.
প্রতিটি ঘটনায় চিত্রনাট্য একই, নির্যাতন, অস্বীকার, সামাজিক চাপ, ভুয়া ব্যাখ্যা, মীমাংসার চেষ্টা, দুর্বল তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক আত্মরক্ষা। যদি প্রতিটি ঘটনায় একই স্ক্রিপ্ট চলে, তাহলে সেটা আর দুর্ঘটনা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পার পাওয়া যায়না, সেটা এক ধরনের কাঠামো।
বাংলাদেশে আবাসিক কওমি মাদ্রাসার সবচেয়ে বড় সংকট হলো অস্বচ্ছতা। দেশে ঠিক কতটি মেয়েদের আবাসিক মাদ্রাসা আছে, কতগুলো নিবন্ধিত, কতগুলোতে প্রশিক্ষিত নারী সুপারভাইজার আছে, কতগুলোতে পুরুষদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, কতগুলোতে স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা আছে, এসব বিষয়ে রাষ্ট্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্যই নেই।
কল্পনা করুন, একটি রাষ্ট্রই জানে না তার কত শিশু কোন প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাত কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষা আসলে বিশ্বাসনির্ভর এক ধরনের জুয়া, faith-based gamble.
এখানে অনেকে বলেন, “সব মাদ্রাসা এক না”, “সব শিক্ষক খারাপ না।” আচ্ছা ঠিক আছে। কিন্তু এটাও equally true, কোনো institution accountability এর ঊর্ধ্বে না। “হুজুর মানুষ” হওয়া safeguarding protocol না। ধর্মীয় শিক্ষা inspection-free zone হতে পারে না। বরং যেখানে শিশু আবাসিকভাবে থাকে, সেখানে oversight আরও কঠোর হওয়া উচিত।
কিন্তু রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গাটাকে regulate না করে আসলে manage করেছে। কখনো ভোটের রাজনীতি, কখনো ধর্মীয় mobilization এর ভয়, কখনো ধর্মবিদ্বেষ তকমা লাগার আশঙ্কা, এসব মিলিয়ে oversight এর জায়গায় এসেছে appeasement। registration এর জায়গায় negotiation। accountability এর জায়গায় প্রতীকী সম্মান।
এর ফল হলো প্রশাসন proactive না। পুলিশ অনেক সময় মাদ্রাসা সংক্রান্ত বিষয়ে নিজ উদ্যোগে এগোয় না। কারণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা মানেই সম্ভাব্য উত্তেজনা। এই দ্বিধাই অপরাধীর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। রাষ্ট্র ভাবে স্থিতিশীলতা, প্রতিষ্ঠান ভাবে দায়মুক্তি, আর শিশুটি পড়ে থাকে এই দুয়ের মাঝখানে।
এখানে gender এর সঙ্গে class ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ধনী পরিবার তাদের মেয়েকে এমন অস্বচ্ছ আবাসিক প্রতিষ্ঠানে পাঠায় না। দরিদ্র পরিবার পাঠায়, কারণ থাকা‑খাওয়ার ব্যবস্থা আছে, ধর্মীয় শিক্ষা আছে, সামাজিক বৈধতা আছে। অর্থাৎ দরিদ্র মেয়েরাই বহন করে সবচেয়ে বেশি প্রাতিষ্ঠানিক ঝুঁকি। তাদের শরীর সবচেয়ে বেশি দরকষাকষির বস্তু হয়ে ওঠে। তাদের জন্য ন্যায়বিচার সবচেয়ে ব্যয়বহুল।
সবচেয়ে বেশি আমাকে নাড়া দেয় মায়েরা। সেই মা, যিনি বলেন, “ আমার মেয়েটা ছাদ থেকে পড়েনি, বাবা ।” সেই মা, যিনি কোনও আপসে রাজি হন না। সেই মা, যিনি দরিদ্র, ক্ষমতাহীন, শোকাহত, তবু জানেন, তার মেয়ের শরীরের সত্য মিথ্যা হতে পারে না।
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় নৈতিক চ্যালেঞ্জ এই মায়েরা। কারণ তারা রাষ্ট্রকে জিজ্ঞেস করেন, আমার মেয়ের মৃত্যুকে কি তোমরা আবার আরেকটা দুর্ঘটনা বানাবে? তার শেষ কথাটা কি তোমরা শুনবে না? তার শরীরের প্রমাণ কি তোমরা মুছে ফেলবে?
এখানেই আমাদের সাংস্কৃতিক ভণ্ডামি স্পষ্ট। আমরা মেয়েদের শরীর নিয়ে অসীম কথা বলি, পর্দা, চরিত্র, শালীনতা, ইজ্জত। কিন্তু safe touch, abuse disclosure, trauma‑informed care, institutional accountability, এসব বিষয়ে নীরব। আমরা মেয়েদের শরীর ঢাকতে ব্যস্ত, কিন্তু তাদের শরীর রক্ষা করতে নয়। যে সমাজে নির্যাতিত মেয়ের চেয়ে হুজুরের সুনাম বড় হয়ে যায়, সেই সমাজ ধর্মীয় হতে পারে, নৈতিক অবশ্যই নয়।
আরেকটা ভয়ঙ্কর জিনিস, সাংস্কৃতিক বিষাক্ততা। মেয়েদের শরীরের স্বাধীনতা? সম্মতি (consent)? ট্রমা রিপোর্টিং? নাহ, এইসব আবার কি, এইখানে পিন পতন নীরবতা। আমরা প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় ব্যস্ত, শিশুর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিয়ে নই। যে সমাজে ধর্ষক হুজুর হওয়ার কারণে সহানুভূতি পায়, আর অভিযোগকারী পরিবার সামাজিক আক্রমণের শিকার হয়, সে সমাজ যতই ধর্মের ভাষায় কথা বলুক, তার নৈতিক ভিত্তি পচে গেছে। হ্যাঁ, গন্ধ বেরুচ্ছে রীতিমত।
নয়তো ভাবুন, oversight কোথায়? governance কোথায়? অধিকাংশ ছোট কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতা বা মালিকের হাতেই নিয়ন্ত্রিত। বোর্ড থাকলেও কার্যকর তদারকি নেই। বড় মাদ্রাসাগুলোতেও পরিদর্শন নামমাত্র। জবাবদিহি? শূন্য। ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেই, অবিশ্বাস, বিভ্রান্তি, সামাজিক চাপ, এসবের আড়ালে সব চাপা দেওয়া হয়।
রাষ্ট্র যদি শিশু সুরক্ষার জন্য দায়বদ্ধ হতো, তবে মেয়েদের মৃত্যু ও নির্যাতনের ঘটনার পর আমরা ক্ষোভের পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কার দেখতাম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ডিরেক্টর চান আপস, বোর্ড নামমাত্র, প্রশাসন নিষ্ক্রিয়। এই পুনরাবৃত্ত ধারা স্বাভাবিক করে নেওয়া হয়েছে।
যদি ১৩ বছরের মেয়েটির মৃত্যু ও সাক্ষ্য আমাদের নৈতিক আলোচনার বাইরে থাকে, যদি প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলাকে আমরা শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি বলে চিহ্নিত করি, তবে আমাদের সমাজ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? কোথায় সেই রাষ্ট্র, যে তার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিককে রক্ষা করবে?
আমার অবস্থান স্পষ্ট, শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেই মামলা প্রত্যাহার বা আপসের জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক চাপকে কঠোর আইনি নজরদারির আওতায় আনা আবশ্যক। সব আবাসিক ও অনাবাসিক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক শিশু সুরক্ষা নীতি, কর্মীদের background check, গোপন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাধীন পরিদর্শন, প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর এবং বাধ্যতামূলক রিপোর্টিং ব্যবস্থা থাকতে হবে। ছেলে‑মেয়ে উভয় শিশুর যৌন নির্যাতন বিষয়ে সামাজিক শিক্ষা প্রয়োজন, যাতে লজ্জা‑সংস্কৃতি ভাঙে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমালোচনাকে ধর্মবিদ্বেষ বলে দাগিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
কাজী ফয়েজ আহমেদ প্রদত্ত সংযুক্ত তথ্যাবলি
এক নজরে দেখুন –
(১) ৩ এপ্রিল ২০২৬ (প্রথম আলো)
নোয়াখালী শহরের একটি মাদ্রাসায় ছাত্রকে ধর্ষণ চেষ্টায় গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ মারুফ।
(২) ৪ এপ্রিল ২০২৬ (প্রথম আলো)
নরসিংদীতে গোসল করতে না চাওয়ায় শিশুশিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটুনি, মাদ্রাসাশিক্ষক আটক।
(৩) ৫এপ্রিল ২০২৬ (এশিয়ান টিভি)
কুড়িগ্রামের এস এস দারুল খইর মাদ্রাসার ৩য় শ্রেনীর ছাত্রকে বলাৎকার করে শিক্ষক হামিদুল হক। তাঁর ফাঁসির দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন।
(৪) ৬ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদপুরে ছাত্রীকে চেতনানাশক মেডিসিন খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ মাদ্রাসা শিক্ষক নাসিরুল্লাহ বাহাদুর পলাতক ও পরবর্তীতে গ্রেফতার।
(৫) ৭ এপ্রিল ২০২৬ (যমুনা টিভি)
মেহেরপুরের মুজিবনগর আইডিয়াল আবাসিক মাদ্রাসায় তিন ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা ঘেরাও এবং শিক্ষক গ্রেফতার।
(৬) ১১ এপ্রিল ২০২৬ (Bdnews24)
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রকে ধ *র্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে আসামি করে মামলা।
(৭) ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (Bdnews24)
মেহেরপুরের গাংনিতে এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা করেন সাব্বির নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক। সালিসে প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপারটি ধামাচাপ দেওয়া হয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ হলে লজ্জায় আত্মহত্যা করে সাব্বির।
(৮) ১৭ এপ্রিল ২০২৬ (সমকাল)
নোয়াখালীর সূবর্ণচরে আবাসিক মাদ্রাসার ছাত্রীকে জ্বীন তাড়ানোর অজুহাতে ধর্ষণচেষ্টা করেন শিক্ষক আবুল খায়ের, থানায় অভিযোগের জন্য ছাত্রীর বাসায় হামলা।
(৯) ২১ এপ্রিল ২০২৬ (ইত্তেফাক)
শরীয়তপুরের জাজিরায় ৬ বছরের এক মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল বাসারকে (৬০) আটক করেছে পুলিশ।
(১০) ২২ এপ্রিল ২০২৬ (একাত্তর টিভি)
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহ জালাল (২৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঁদপুরের মতলব উত্তরে একটি মাদ্রাসাতেও ধর্ষণের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে এক শিক্ষককে।
(১১) ২৩ এপ্রিল ২০২৬ (সমকাল)
নেত্রকোনার মদনে মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১১বছরের এক শিশু। প্রাণনাশের ভয়ে এলাকা ছাড়া ধর্ষিতার পরিবার।
(১২) ২৪ এপ্রিল ২০২৬ (প্রথম আলো)
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ১০ বছর বয়সী আবাসিক শিশু ছাত্রীকে রাত দুইটার দিকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মাদ্রাসার শিক্ষক মুহতামিম জুনাঈদ আহমদ। পরদিন সকালে শিশুটি অসুস্থতা বোধ করলে তাকে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন। পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি এলার্মিং।
সরকার ও সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
