রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুক্রবার সকালে আঘাত হানা ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি, সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে যাওয়া এবং ভবনের ভেতর হুড়োহুড়ির ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন ৬০৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১৬৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত ১৬ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তবে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া বহু আহত এখনও হিসাবের বাইরে থাকায় মোট আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়ানোর শঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানীর প্রধান সরকারি হাসপাতালে আহত রোগীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, ভর্তি ৬ জন। মিটফোর্ড হাসপাতালে ১৬ জন, ভর্তি ১ জন। পঙ্গু হাসপাতালে ৮৩ জন চিকিৎসা নিয়েছে, ভর্তি ১৮ জন। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন আহত। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আহত ২ জন।
ঢাকার বাইরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৫৯ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন; ভর্তি ১ জন, রেফার ২ জন। জেলা হাসপাতালে আরও ১৩ জন এবং রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। নরসিংদীতেই ৫ জন মারা গেছেন।
গাজীপুর অঞ্চলে আহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৫ জন চিকিৎসা নিয়েছে; ভর্তি ৫৫ জন। টঙ্গী আহসানুল্লাহ হাসপাতাল ৮৫ জন, ভর্তি ১৪ জন; গুরুতর ৭ জনকে রেফার করা হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৭ জন চিকিৎসা নিয়েছে; ভর্তি ৪৭ জন, রেফার ৬ জন।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১৬ জন আহত চিকিৎসা নিয়েছেন।
এছাড়াও মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৬ জন আহত চিকিৎসা নিয়েছেন; ভর্তি ১৩ জন। জেলার ২৫০ শয্যার হাসপাতালেও ২৮ জন আহত এসেছে; ভর্তি ৯ জন। সারাদেশেই বিভিন্ন স্থানে কমবেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক মহাপরিচালক ডা. মঈনুল আহসান জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে জরুরি মেডিকেল টিম সক্রিয় করা হয়েছে, এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ–চিকিৎসা সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অধিকাংশ আহতই ভবন ধসের কারণে নয়; বরং ভূমিকম্পের মুহূর্তে আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি, সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নামা ও হুড়োহুড়ির কারণে আহত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বাড়ানো ও নিরাপদে ভবন ত্যাগের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
