বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, মানবাধিকার রক্ষাকর্মী, সাংবাদিক এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর চলমান দমন-পীড়ন নিয়ে জাতিসংঘের সংখ্যালঘু বিষয়ক ফোরামে উদ্বেগ জানিয়েছে জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)।
গতকাল ২৭শে নভেম্বর, বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সংখ্যালঘু বিষয়ক ১৮তম ফোরামে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উপস্থাপিত মৌখিক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলাম।
তিনি বলেন, সংবিধানে সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও ধর্মীয়, ভাষাগত ও আদিবাসী সংখ্যালঘুসহ লিঙ্গ-বৈচিত্র্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠী—বিশেষত এলজিবিটিকিউআই+ ব্যক্তিরা—বৈষম্য, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দেশের সামাজিক সম্প্রীতি দুর্বল করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেএমবিএফ-এর অনুসন্ধানের তথ্য উপস্থাপন করে অ্যাডভোকেট ইসলাম জানান, গত এক বছরে প্রায় ৪০০ লিঙ্গ-বৈচিত্র্যসম্পন্ন ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তিনি ১৩ই নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. এরশাদ হালিমের গ্রেপ্তার, ২৬শে জানুয়ারি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের বরখাস্ত, ১০ই আগস্ট সিলেট মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থী সাহারা চৌধুরীর বহিষ্কার এবং জুলাইতে লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ শিক্ষার্থীকে হল থেকে উচ্ছেদের ঘটনা উল্লেখ করেন।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবস্থার অবনতি নিয়েও বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ করা হয়, ১৯শে নভেম্বর কোনো কারণ ব্যাখ্যা ছাড়াই দুই হিন্দু সরকারি কর্মকর্তা—অনুপ কুমার বিশ্বাস ও নবমিতা সরকার—চাকরি থেকে অপসারিত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে; যা সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলাম এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা, সংখ্যালঘুদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদারে আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি মানবাধিকার রক্ষাকর্মী, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকদের সঙ্গে তিনটি পৃথক বৈঠক করেন।
মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় তিনি জেএমবিএফ মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীরের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার অভিযোগ তুলে ধরেন এবং তার নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদকের কার্যালয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেন।
তিনি দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর মিথ্যা মামলা, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও বিচারহীন আটক নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত এবং বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি বলে বর্ণনা করেন।
এ ছাড়া সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়েও তিনি উদাহরণ তুলে ধরেন।
