শহীদের স্মৃতি বহন করে, বিজয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে যে স্বপ্ন নিয়ে আজ থেকে ১৮ বছর আগে ২০০৭ সালে জন্মেছিলো বিজয় ফুল কর্মসূচী, সেই যাত্রা এখনও অব্যাহত আছে নতুন প্রত্যয়ে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বীরগাথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে গড়ে ওঠা এই কর্মসূচী আমাদের জাতীয় চেতনাকে প্রতি বছর নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ০১ মিনিট এবং লন্ডন সময় বিকেল ৬টা ০১ মিনিটে, লন্ডনের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উদ্বোধন হলো এবারের বিজয় ফুল কর্মসূচী—এক গম্ভীর ও ইতিহাসবহ মুহূর্ত। দেশ থেকে দূরে থাকলেও হৃদয়ের মাটিতে আমরা আজও সেই রক্তঝরা একাত্তরকে ধারণ করে আছি।
প্রতিবারের মতো এবারও বিজয়ফুল কর্মসূচী উদ্বোধন করলেন ১৯৭১-এর তিনজন মহান মুক্তিযোদ্ধা—যাদের সাহস, ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে জন্মেছিলো স্বাধীনতার সূর্য। তাঁদের হাতে বিজয় ফুলের আলো জ্বলে ওঠার মধ্য দিয়ে যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দিলো—বিজয় কোনো কিংবদন্তি নয়, বাস্তব সংগ্রাম আর অবিনশ্বর আত্মত্যাগের ফসল।
১লা ডিসেম্বর থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা সবাই বুকে পরিধান করবো বিজয় ফুল শুধু প্রতীক হিসেবে নয়, বরং এক অঙ্গীকার হিসেবে। অঙ্গীকার, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, মানবিকতা, সাম্য, ন্যায়বিচার ও অসাম্প্রদায়িকতা ধরে রাখার। অঙ্গীকার, নতুন প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস জানানো এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় চেতনা এগিয়ে নেওয়ার।
লন্ডনের শীতের সন্ধ্যায় শহীদ মিনারের পাদদেশে দাঁড়িয়ে আজ যেন আমরা সবাই সময়কে ছুঁয়ে দিলাম ১৯৭১-এর সেই রক্তাক্ত, দীপ্ত মুহূর্তগুলোকে।
বিজয় ফুল হাতে নিয়ে আমরা আবারও বললাম—আমরা বাঙালি, আমরা বিজয়ের ধারক।
