ঢাকা, ২৬ জুলাই: ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) বর্ষামঙ্গল উৎসবের আয়োজন করা হয়। বাংলার ঋতু-উৎসবের ঐতিহ্য অনুসরণে গান, কবিতা, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে এই জনপ্রিয় স্থান। বর্ষার সৌন্দর্য ও প্রকৃতির উদযাপনকে কেন্দ্র করে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
উৎসবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ষা-বিষয়ক গানসহ বিভিন্ন শিল্পীর পরিবেশনা ছিল মূল আকর্ষণ। ‘ঐ আসে ঐ অতিভৈরব হরষে’ কিংবা অন্যান্য ক্লাসিক বর্ষার গানে মাতিয়ে তোলেন শিল্পীরা। নৃত্য পরিবেশনায় বর্ষার ঝরনা, মেঘের গর্জন ও প্রকৃতির সজীবতা ফুটে ওঠে। আবৃত্তি ও কবিতা পাঠের মাধ্যমে বর্ষার সাংস্কৃতিক তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। উদীচীসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এমন অনুষ্ঠান প্রায়ই হয়ে থাকে, যা বাঙালির ঋতু-চেতনাকে জাগ্রত করে।
রবীন্দ্র সরোবরের সবুজ পরিবেশ ও জলাশয় বর্ষামঙ্গলের জন্য উপযুক্ত স্থান। দর্শনার্থীরা বৃষ্টির ছন্দে মিশে উৎসব উপভোগ করেন। অনেকে বলেন, শহুরে জীবনে বর্ষা প্রায়ই যানজট ও জলাবদ্ধতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু এই ধরনের উৎসব বর্ষাকে তার সাংস্কৃতিক রূপে ফিরিয়ে আনে—নবজীবন, সজীবতা ও আনন্দের প্রতীক হিসেবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে শান্তিনিকেতনে বর্ষামঙ্গল উৎসবের প্রচলন করেছিলেন। তাঁর গান ও কবিতায় বর্ষা বারবার এসেছে নবযৌবনা, শ্যামগম্ভীর রূপে। এই ঐতিহ্য অনুসরণ করে আধুনিক উৎসবগুলোতে গান-নাচের পাশাপাশি প্রকৃতি সচেতনতা, বৃক্ষরোপণের মতো উপাদানও যুক্ত হয়।
এবারের আয়োজনে স্থানীয় শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ষার মেঘলা আকাশের নিচে এই উদযাপন বাঙালি সংস্কৃতির সমৃদ্ধি ও ঐক্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এমন উৎসব চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্ষামঙ্গল শুধু উৎসব নয়, বাংলার প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর যোগসূত্রের স্মারক। রবীন্দ্র সরোবরের মতো স্থানে এর আয়োজন সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়।
