অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালিত ট্রাইব্যুনালে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালটি যে উদ্দেশ্যে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা—ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই এখতিয়ার ভঙ্গ করছে।
আওয়ামী লীগের ভাষ্য, ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, যুদ্ধাপরাধ বিচারসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানকে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রিক ভিত্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। আনীত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবে দীর্ঘদিন দেশের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল খাত উন্নয়নে কাজ করেছেন। তার নেতৃত্ব ও নীতিগত পরামর্শের ফলে বাংলাদেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ধারণায় অগ্রগতি অর্জন করেছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তির নামে এমন পদক্ষেপ নিতে হলে অভিযোগের ভিত্তি ও প্রাথমিক প্রমাণ থাকা প্রয়োজন, যা এই ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়, জুলাই-আগস্টের সহিংস ঘটনার সময় সজীব ওয়াজেদ জয় দেশের বাইরে ছিলেন—এ তথ্য সর্বজনবিদিত। সেই পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে দায় আরোপ ও পরোয়ানা জারি “অবৈধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন” বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই মামলাকে ইউনূস সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করছে। এটি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা।
আওয়ামী লীগ জানায়, বাংলাদেশের জনগণ এই ষড়যন্ত্র প্রত্যাখ্যান করছে।
বিবৃতির শেষে আওয়ামী লীগ জানায়, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রবিরোধী যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকবে।
