জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর মুজিবনগর সরকারের ৪০০ টাকা বেতনের সরকারি কর্মচারী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জিয়াউর রহমানকে ” ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ” বানিয়েছেন। জিয়া বঙ্গবন্ধুকে স্যালুট দিতেন । বঙ্গবন্ধু কখনোই জিয়াকে স্যালুট দেননি।তাই জিয়াকে বঙ্গবন্ধু এত সম্মান দেওয়ার পরও জিয়া তাতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না। সেনাবাহিনীর প্রধান ও প্রেসিডেন্ট সব পদ সে এক এক করে দখল করেছে। ক্ষমতালোভী এক জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।
♦️ মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টা জিয়াউর রহমান ভারতের ত্রিপুরার সাবরুম ও মেঘালয়ের তেলঢালা ক্যাম্পে ছিলেন। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় তার তেমন ভিডিও ও রণাঙ্গনে সরাসরি যুদ্ধ করার কোন ডকুমেন্ট তেমনভাবে পাওয়া যায় না।তার বিপরীতে কে ফোর্সের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ ও এস ফোর্সের শফিউল্লাহ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বীরত্বের এখনও অসংখ্য ভিডিও ও তথ্যচিত্র আপনারা দেখতে পান। জিয়াউর রহমানের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে জেড ফোর্স জিয়াউর রহমান গঠন করেননি,বরং জিয়াউর রহমানকে জেড ফোর্স এর প্রধান এবং খালেদা্ মোশাররফ এর নামের আদ্যক্ষর দিয়ে কে ফোর্স ও শফিউল্লাহ এর নামের আদ্যক্ষর দিয়ে এস ফোর্স এসব গঠন করেছে বঙ্গবন্ধুর মুজিবনগর সরকার। এজন্য দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি হয়নি। যুদ্ধ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে হলে জিয়া বাংলাদেশের মধ্যে কোন রাজনৈতিক দলকেই জীবিত রাখতো না।
♦️ মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই সেনাবাহিনী তিনভাগে বিভক্ত ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে এসে ফোর্সের প্রধান শফিউল্লাহকে সেনাবাহিনীর প্রধান এবং জিয়াউর রহমানকে ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ বানানোর পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেলো। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীকে বিভক্ত করে রেখেছিলেন। ১৯৭৩ সাল থেকে পাকিস্তান ফেরত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা দলে দলে বাংলাদেশে আসতে শুরু করলে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর একটা অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে কোনঠাসা করে ফেলেন।
♦️১৯৭৩ সালে পাকিস্তান থেকে মুক্তিযুদ্ধ না করা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা দলে দলে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে থাকলে শুরু হয় বঙ্গবন্ধু সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র। একের পর এক ভয়াবহ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়।এই প্রোপাগান্ডা তিনভাগে বিভক্ত ছিল ।
▪️ রক্ষীবাহিনী।
▪️১৯৭৪ এর দুর্ভিক্ষ।
▪️ বাকশাল গঠন।
♦️ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে রক্ষীবাহিনীকে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি ও সেনাবাহিনীতে পুনর্বাসন করেছেন। যে রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ জিয়াউর রহমানের , সেই রক্ষীবাহিনীর একটা সদস্যের বিচার না করে উল্টো তাদের পুরস্কৃত করেছেন জিয়াউর রহমান।
♦️যে বাকশালের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ , সেই বাকশাল বাতিল করলেও বাকশালের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা ঠিক রেখে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।এমন ভয়ানক হিপোক্রিটের উদাহরণ পৃথিবীর রাজনীতিতে আরেকজন দেখাতে পারবেন না। জিয়া ছিল মুলত বাকশালের রাষ্ট্রপতি ।অথচ এই বাকশাল নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের প্রোপাগান্ডার শেষ নেই।
♦️১৯৭৪ এর দুর্ভিক্ষ হয়েছিল আমেরিকার ফুড পলিটিক্স এর কারণে। আশ্চর্যজনক বঙ্গবন্ধু সরকারের খাদ্য বন্ধ করে দিয়ে সেই পিএল -৪৮০ এর খাদ্য চালান জিয়াকে উপহার দিয়েছিল আমেরিকা। বিএনপি ও জামায়াতের এত আমেরিকা প্রেম কেন ⁉️ আশাকরি একটু একটু বুঝতে পারছেন।
♦️১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন। তিনি তখন একই সাথে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান,বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এবং ক্ষমতার জোরে রাজনৈতিক দল বিএনপিরও প্রেসিডেন্ট। সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে জিয়াউর রহমান বিএনপি নামক রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন ।এই রাজনৈতিক দলে ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে দুর্নীতির অভিযোগ বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের যেসব মন্ত্রী ও এমপিকে আওয়ামীলীগ থেকে বের করে দিয়েছিলেন,জিয়াউর রহমান এদের প্রায় সবাইকে নিজ দল বিএনপিতে ঢুকিয়েছেন। শেখ মুজিব পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচার করা যাবে না এই ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জিয়াউর রহমান পাশ করেছিলেন। পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়া জামায়াত শিবিরের ৩৭ জনের নাগরিকত্ব জিয়াউর রহমান ফিরিয়ে দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে জিয়াউর রহমান ১৯৭৩ সালের দালাল আইন বাতিল করে ১১ হাজার রাজাকারকে জেলখানা থেকে ছেড়ে দিয়েছেন।
রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ করার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ঠান্ডা মাথার খুনী। ১৯৭৭ সালে মাত্র দুই মাসে ১,১৪৩ জন সেনাবাহিনীর অফিসারকে জিয়াউর রহমান হত্যা করেছেন।এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার কে করবে?
♦️ রাজনৈতিক দল গঠন করার পর জিয়াউর রহমান ভারত বিরোধিতাকে তারায় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিতে শুরু করেন। সেই জিয়াই তার শাসনামলে দুইবার ভারত সফর করেছেন। ভণ্ডামি কত প্রকার ও কি কি তা জিয়ার রাজনৈতিক চরিত্র পড়লে জানতে পারবেন। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা আসলে কী ছিলো?
♦️১৯৪৭ সালে যখন ভারত ও পাকিস্তান দুটো আলাদা দেশ হয় তখন ভারত চাইলেই ব্রিটিশদের কাছে বাংলাদেশ দাবি করতে পারতো। কিন্তু নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ ভূখন্ডকে ভারত তাদের অঙ্গরাজ্যে বানায়নি। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানীরা পাক ও ভারত যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমাদের বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ অরক্ষিত ফেলে রেখে ভারতের সাথে যুদ্ধ করার জন্য চলে গিয়েছিল। ১৯৬৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভারত চাইলে মাত্র কয়েক ঘন্টায় সমগ্র বাংলাদেশ চিরজীবনের জন্য দখল করে নিতে পারতো। কিন্তু ভারত তাও করেনি। ১৯৭১ সালে ৯৩ হাজার পাকিস্তানের সৈন্য ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।
ভারত চাইলে তখনও বাংলাদেশ দখল করে নিতে পারতো। কিন্তু এই বিষফোঁড়া ভারতের সাথে যুক্ত করে ভারতের কয়েক টুকরো হওয়ার শখ অতীতেও ভারতের ছিলো না , বর্তমানেও নেই , ভবিষ্যতেও থাকবে না। বরং বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের জন্য হিউম্যান শিল্ড হিসেবে কাজ করে। এজন্য ভারত তার প্রতিবেশী নেপাল, ভূটান , শ্রীলঙ্কা , মালদ্বীপ কোন একটি দেশও দখল করেনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে ভারতীয় বাহিনী চিরতরে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছে।কারণ এই দেশগুলো ভারতের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হিউম্যান শিল্ড। তবুও ” ভারত জুজু” এর ভয় দেখিয়ে গত প্রায় ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের মধ্যে রাজনীতি করছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি।এই ভারত বিরোধিতা ছাড়া এদের আর কোন রাজনৈতিক অর্জন বাংলাদেশের জন্য নেই।
👉 স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জায়গা দখল করেছে , এমন একটি উদাহরণ কেউ দেখাতে পারবেন ⁉️
👉 বিমান থেকে বাংলাদেশে একটা বোমা বর্ষণ করেছে , এমন একটি উদাহরণ দেখাতে পারবেন ⁉️
সত্য সবসময় সুন্দর।
লুসিড ড্রিম
৮ ভাদ্র,১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪ আগষ্ট, ২০২৬
