রিমান্ড শুনানিতে আদালতের অনুমতি নিয়ে আনিস আলমগীর বলেন, সাংবাদিক হিসেবে তার কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। একটি নির্দিষ্ট দল তাকে তাদের গোলাম বানাতে চায়। কিন্তু তিনি তা চান না।
সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
তিনি বলেন, তিনি হালুয়া–রুটি খাবেন না। তিনি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করে গেছেন, এখনো করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।
এর আগে পুলিশ আনিস আলমগীরের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান এ আবেদন করেন।
সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সাদা হাইস গাড়িতে করে তাকে আদালতে আনা হয়। প্রথমে তাকে গারদে রাখা হয়।
বিকেল পাঁচটা ২৮ মিনিটে গারদ থেকে তাকে বের করা হয়। কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে সিঁড়ি দিয়ে হাঁটিয়ে আদালতের পাঁচতলায় নেওয়া হয়।
তখন তার বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হাতে হাতকড়া এবং মাথায় হেলমেট ছিল। বিকেল পাঁচটা ৩৪ মিনিটে তাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। পুলিশ হেলমেট খুলে দিলে তিনি তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তার আইনজীবীরা তাকে ধৈর্য ধরতে বলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, সাংবাদিকতার আড়ালে আনিস আলমগীর কুচক্রী মহলের সঙ্গে জড়িত। তিনি দেশদ্রোহী কার্যক্রমে যুক্ত। উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তিনি স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন সুলতানা বলেন, আনিস আলমগীর একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক। দেশের বাইরেও তার খ্যাতি রয়েছে। তিনি ইরান–ইরাক যুদ্ধ কাভার করেছেন। তিনি শিক্ষকতা করেন এবং নিয়মিত বই লেখেন। টকশোতে তিনি যা বলেন, অতীতেও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। কথা বলা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অংশ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনও হয়েছিল কথা বলার অধিকারের জন্য। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যে উদ্দেশ্য ছিল, সেটিই বাস্তবায়ন করতে চান তিনি। তিনি রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করেন।
শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে আনিস আলমগীর বলেন, তার নাম আনিস আলমগীর এবং তিনি একজন সাংবাদিক। তিনি বলেন, যুদ্ধে তালেবানরা তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তখনও তিনি ভয় পাননি। মৃত্যুভয় তাকে আর তাড়ায় না। তিনি খালেদা জিয়ার আমলে প্রশ্ন করেছেন, শেখ হাসিনার আমলেও প্রশ্ন করেছেন এবং এখনো করছেন।
তিনি বলেন,
“প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাজে ঢুকে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
আমরা জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলাম, কিন্তু এখন পরিবেশ ভিন্ন।
আদালতে তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস চাইলে সারা দেশকে কারাগার বানিয়ে দিতে পারেন এবং দেশকে দোজখে পরিণত করতে পারেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। তিনি যে বক্তব্য দেন, তা প্রেক্ষাপট থেকেই আসে।
আনিস আলমগীর বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় দুজন ব্যক্তি। একজন প্যারিসে থাকেন, অন্যজন নিউইয়র্কে। তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায় এবং ভিউ ব্যবসা করে। তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে। তারা ইউনূস সরকারের কাছে যাওয়ার পরই তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ সময় পিপি বলেন, আসামির বক্তব্য আগ্রাসী। তিনি আওয়ামী লীগের কর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন। এটি উস্কানিমূলক ও পরিকল্পিত বক্তব্য। বক্তব্য দেওয়ার নানা ধরন আছে। অনেকে বক্তব্য দিয়েছেন, কিন্তু সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে রোববার রাজধানীর ধানমন্ডি ২ নম্বরে একটি জিম থেকে বের হওয়ার পর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবির কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
