আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ইউনূস সরকার দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ধ্বংস করেছে এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কটের পক্ষপাতী নয়, বরং দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে চায়; কিন্তু তাদের মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না।
এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে সব দলের অংশগ্রহণ থাকার কথা। কিন্তু আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ছাত্রলীগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে তারা জিতবে—এই আশঙ্কা থেকেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “তাহলে কিসের গণতন্ত্র, কিসের মানবাধিকার?”
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের শাসনে মানুষের মৌলিক অধিকার নেই, বিচার চাওয়ার সুযোগ নেই, এমনকি নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তাও নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সংকটে পড়েছে এবং দারিদ্র্যের হার বেড়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কট করে না এবং সব সময় নির্বাচন করতে চায়। তবে যদি আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি থাকবে—আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত ভোটাররা কেন্দ্রগুলোতে না যান।
তাঁর বক্তব্য, “আমরা নির্বাচন বয়কট করি না, কিন্তু আমাদের নির্বাচন করতে না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবে না।”
বিএনপি ও জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে এসব দল নিজেরাই বয়কটের পথ বেছে নিয়েছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনো সেই পথ অনুসরণ করেনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হলেও মানুষ এখন বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অনেকে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছে।
তাঁর ভাষ্য, এই সময় দেশে দুর্নীতি ও লুটপাট বেড়েছে।
শেখ হাসিনা গণমাধ্যম পরিবেশ নিয়েও সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং বিরোধী মতের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
তাঁর বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন, সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল পর্যন্ত এখন আর নিরাপদ নেই।
বক্তব্যে তিনি পুনরায় বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে প্রস্তুত এবং জনগণের ওপর আস্থা রাখে। তিনি বলেন, “মানুষ এখন বুঝতে পারছে, কারা দেশের ক্ষতি করছে আর কারা উন্নয়ন করেছে।”
