দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের তুর্কি নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউটিউবার জুলকারনাইন সায়ের একটি তুর্কি পাসপোর্টের ছবি ও তথ্য শেয়ার করে জানান, এটি মাহমুদুর রহমানের পাসপোর্ট। যা তুর্কি সরকার ইস্যু করেছে এবং এর মাধ্যমে তিনি সাম্প্রতিক সময়েও ভ্রমণ করেছেন।
জুলকারনাইনের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাহমুদুর রহমান তুর্কি নাগরিকত্ব কীভাবে পেয়েছেন, সেই প্রক্রিয়া এবং এর পেছনে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
জুলকারনাইন প্রশ্ন তুলেছেন, যদি অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে তুর্কি নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তবে তার পরিমাণ অনেক বড় (কোটি কোটি টাকা), এত বিপুল অর্থ কীভাবে বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে পাঠানো হয়েছে? বৈধ চ্যানেলে বিদেশে এত অর্থ পাঠানোর সুযোগ না থাকায় তিনি কি হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করেছেন? নাকি কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সংস্থা তাকে ‘পুরস্কার’ হিসেবে এই নাগরিকত্ব দিয়েছে?
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে মালয়েশিয়া যাওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালে তুরস্ক থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত মাহমুদুর রহমান বিভিন্ন দেশে অবস্থান করলেও কোথাও কোনো চাকরি বা লাভজনক কাজ করেননি বলে জানা যায়। এই সময়কালে তার খরচের উৎস জমানো অর্থ বা পরিবারের সহায়তা হতে পারে, কিন্তু ২০২০ সালের দিকে তুর্কি নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ (সাধারণত ৪-৫ লাখ মার্কিন ডলার বা সমমানের রিয়েল এস্টেট/ব্যাংক ডিপোজিট) কীভাবে যোগাড় করা হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী এই মাহমুদুর রহমানের দুর্নীতি-সম্পৃক্ততার প্রচুর তথ্য আগেও প্রকাশিত হয়েছে।
তুর্কি নাগরিকত্ব বিনিয়োগ কর্মসূচি (Citizenship by Investment) অনুযায়ী, ২০২০ সালের আশেপাশে রিয়েল এস্টেটে ন্যূনতম ২৫০,০০০ থেকে ৪০০,০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়, যে বিনিয়োগ অন্তত ৩ বছর ধরে রাখতে হয়। এই অর্থ বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এই সাংবাদিক নিজেই কি অবৈধ পথে অর্থ পাচার করেছেন?
মাহমুদুর রহমান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তুরস্ক থেকে দেশে ফিরে আসার পর থেকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন এবং আমার দেশ পত্রিকা পুনঃপ্রকাশের অনুমতি নিয়েছেন। এই নাগরিকত্বের অভিযোগ তার বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
মাহমুদুর রহমানের পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জুলকারনাইন আশা প্রকাশ করেছেন যে, মাহমুদুর রহমান নিজেই এই বিষয়গুলো খোলাসা করবেন। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
