ঢাকা, ১ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ২০২৬ সালের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশবাসীকে “এই অন্ধকারের যাত্রা থেকে দেশকে বাঁচাতে” ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে গভীর সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করেছেন যে, দেশ অর্থনৈতিক ধস এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসম্মানের মুখোমুখি হয়েছে।
আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করা এই বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, “প্রিয় দেশবাসী, দেশকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ ও কুৎসিত চেহারা ইতিমধ্যে জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। আপনারা দেখেছেন কীভাবে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা আপনাদের জিম্মি করে সীমাহীন দুর্নীতি, মিথ্যা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের নেশায় দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বিদেশী বিনিয়োগকারী ও দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতি ধসে পড়েছে। বাংলাদেশের নাম এখন বিশ্বে আতংকের সাথে উচ্চরিত হয়, ফলে কোনো দেশই বাংলাদেশ ও তার জনগণকে সম্মানের চোখে দেখছে না।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার এবং দেশের স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শেখ হাসিনা জনগণের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ এই চলমান কষ্টকে আর দীর্ঘায়িত হতে দেবেন না। নতুন বছরেই আমরা তার নির্ণায়ক ফলাফল দেখতে পাব।”
তিনি নববর্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ রক্ষার প্রতিজ্ঞা নেওয়ার আহ্বান জানান।
আওয়ামীলীগের সভাপতি ববঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমার গভীরতম স্বপ্ন এবং আজীবন সংগ্রামের আকাঙ্ক্ষা এই যে, আমাদের এই দেশ সত্যিকার অর্থে—ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, পেশা বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সবার হবে”
বার্তার শেষে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “প্রিয় দেশবাসী, ২০২৬ সালে আমাদের জাতীয় জীবনে শান্তি ফিরে আসুক; প্রতিটি নাগরিকের জীবন নিরাপত্তা ও সম্প্রীতিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠুক—এই কামনায় আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।”
শুভেচ্ছা বার্তার শেষে তিনি বলেন, “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। অন্ধকারের পর ভোরের আলো আসুক। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”
এই বার্তা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসেছে, যখন শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে।
রাজনীতিবোদ্ধারা মনে করছেন, এই বার্তা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মনোবল বাড়াতে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সহায়ক হবে।
