নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি সম্প্রতি একটি স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন যা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি সরাসরি ইঙ্গিত করে। তিনি বলেছেন, “নেপালকে বাংলাদেশের মতো হতে দেবো না”।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে কার্কি নেপালের জেন-জি আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসাত্মক পরিণতি এড়ানোর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নেপালে আন্দোলনকারীদের বহুমুখী চাপ সত্ত্বেও তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ধ্বংস হতে দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি অত্যধিক নমনীয়তা দেখিয়ে ক্ষমতার বড় অংশ ছেড়ে দিয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং “মোবোক্রেসি” (জনতার উগ্রতা ও হিংসাত্মক নিয়ন্ত্রণ) এবং অরাজকতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সুশীলা কার্কি বলেন, “আমরা আন্দোলনকে সম্মান করি, কিন্তু অরাজকতা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে কখনোই জাতীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করে ছাড় দেওয়া যাবে না। নেপালে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হতে দেব না যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্র অচল হয়ে পড়ে এবং যে কেউ ইচ্ছামতো যা খুশি তাই করতে পারে।”
এই বক্তব্যের পর নেপালের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, কার্কির এই অবস্থান নেপালকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশে ইউনূস সরকার আন্দোলনকারীদের সকল অনাচার, হত্যা, দুর্ণীতি, অরাজকতাকে বৈধতা দিতে দায়মুক্তি দিয়েছেন।
কিছু জেন-জি নেতা এই মন্তব্যকে “আন্দোলনের চেতনার প্রতি অবিশ্বাস” হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন-জি আন্দোলনের মুখে কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতনের পর সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক পথের মধ্যে একটি স্পষ্ট তুলনা তুলে ধরেছে—যেখানে একদিকে নেপালে কঠোর আইনি শাসন ও সীমিত সময়ের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশে আন্দোলনোত্তর পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চয়তা ও বিতর্কের মধ্যে রয়েছে।
