১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান যে মানুষটির পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল তিনি মেহেরপুরের তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী। দক্ষ, সাহসী ও কর্তব্যনিষ্ঠ সিএসপি অফিসার তৌফিক ই ইলাহী মহান মুক্তিযুদ্ধে অসমান্য অবদানের জন্য দেশ স্বাধীনের পর বীরবিক্রম খেতাবে ভূষিত হন। আজ যখন মুজিবনগর দিবসের ৫৫ তম বার্ষিকী তখন দেশপ্রেমিক এই খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে।
তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী সম্বন্ধে সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব ড. সা’দত হুসাইন এক স্মৃতিভাষ্যে বলেছিলেন, “০১ মার্চ ১৯৭১ এ গণঅভ্যুত্থান শুরু হলে সেটেলমেন্ট ক্যাম্প বন্ধ করে আমাদেরকে নিজ নিজ কর্মস্থলে যােগ দেবার নির্দেশ দেয়া হয়। আমি যশােরে ফিরে আসি। এরপর ওয়ালি (১৯৬৭ সাল ব্যাচের সিএসপি ওয়ালিউল ইসলাম) ভাই-এর সাথে সর্বশেষ দেখা হয়েছে ২৩ মার্চ তারিখে, ঝিনাইদহে। মহকুমা পুলিশ অফিসার মাহবুব উদ্দিনের (পরবর্তীতে এসপি মাহবুব নামে খ্যাত) বাসায় মধ্যাহ্ন ভােজে স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশ তখন উত্তাল। পুরােমাত্রায় চলছে অসহযােগ আন্দোলন। সেই অনুষ্ঠানে আরাে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের মহকুমা প্রশাসক ড. তৌফিক ভাই (ড. তৌফিক ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম) রাজবাড়ি মহকুমার প্রশাসক শাহ মােহাম্মদ ফরিদ (পরবর্তীতে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি)। তৌফিক ভাই বলেছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে আমি। সরাসরি যুদ্ধে যােগ দেব, অবস্থা বেগতিক দেখলে লাফ দিয়ে ওপারে গিয়ে বসে থাকবো, তবে কোনাে অবস্থাতেই পাকিস্তানিদের গােলামী করব না। অনুষ্ঠানে সবাই স্বাধীনতার পক্ষে সােচ্চার ছিল।”
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী তার সেদিনের অঙ্গীকার যথাসময়ে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন। বস্তুত বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যেসব সিএসপি- ইপিসিএস অফিসার মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শুরুতে ও পরে নানাভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং আগাগােড়া গৌরবদীপ্ত ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে তাঁর অবদান অন্য সবার চেয়ে অনন্য। একমাত্র পূর্বপাকিস্তানি বাঙালি সিভিল সার্ভিস অফিসার হিসেবে তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায়, বুদ্ধিতে ও একক চেষ্টায় একটি দেশের নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে (এসডিও) অধিষ্ঠিত থেকে অন্য আরেকটি স্বাধীন দেশের (এক্ষেত্রে ভারতের) সম ও উর্ধ্বতন পদ-পদবির কর্মকর্তাদের কাছে আসন্ন মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন-সহযােগিতা চেয়ে গোপনে পত্র যােগাযােগ করেছিলেন। তৌফিক ইলাহী চৌধুরীই প্রথম পূর্বপাকিস্তানি সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা, যিনি স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতের প্রত্যক্ষ সহযােগিতা চান। এজন্য তিনি এককভাবে কিছু প্রাথমিক উদ্যোগও নিয়েছিলেন; যে-প্রক্রিয়ায় পরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে জনাব তাজউদ্দীন আহমদ, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম প্রমুখ জড়িত হয়েছিলেন।
বিশিষ্ট গবেষক সুকুমার বিশ্বাস জনাব চৌধুরীর ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারসূত্রে মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ও তৎপরতা সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধে রাইফেলস ও অন্যান্য বাহিনী শীর্ষক গ্রন্থে যা লিখেছেন, তার কিয়দংশ এখানে তুলে ধরা হলাে: “মার্চ মাসে মেহেরপুর মহকুমা প্রশাসক ছিলেন জনাব তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী। তিনি ২৫শে মার্চেই পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে বাংলাদেশ সরকারের আনুগত্য ঘােষণা করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। জনাব চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যের প্রশ্নে ভারতের সঙ্গে যােগাযােগ শুরু করলেন। ২৬শে মার্চ তিনি তার সিল-স্বাক্ষর দিয়ে দুটি চিঠি লিখলেন ভারতবর্ষে। একটি চিঠি নদীয়া জেলা প্রশাসককে, যার অনুলিপি দিলেন ৭৬তম বি, এস, এফ.-এর কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্নেল চক্রবর্তীকে। অপর চিঠিটি লিখলেন ভারতবর্ষের জনগণের উদ্দেশ্যে। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জনাব চৌধুরীকে ২৯শে মার্চ ভারতের বেতাই বি. ও. পি, (বর্ডার আউট পােস্ট) তে সাক্ষাৎ করতে বললেন।/ ২৯শে মার্চ জনাব চৌধুরী ভারতের বেতাই বি, ও, পি-তে উপস্থিত হন। নদীয়া জেলা প্রশাসক এবং লে: কর্নেল চক্রবর্তী জনাব চৌধুরীকে সাদরে গ্রহণ করলেন। এক ঘন্টা নানা বিষয় নিয়ে আলােচনা শেষ করে জনাব তৌফিক-ই-এলাহী মেহেরপুর ফিরে আসেন। পুনরায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জনাব তৌফিক-ই-এলাহীকে সংবাদ পাঠালেন ৩০শে মার্চ রাতে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে চেংখালী চেক পােস্টের অদূরে ভারতীয় বি, ও, পি-তে একজন সামরিক অফিসারসহ দেখা করার জন্য। জনাব চৌধুরী মেজর ওসমানের সঙ্গে আলােচনার জন্যে ৩০শে মার্চ সকালে চুয়াডাঙ্গা আসেন। মেজর ওসমান ঝিনাইদহ মহকুমা পুলিশ অফিসার জনাব মাহবুব উদ্দিন আহমদকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে যেতে বললেন। তৌফিক-ই- এলাহী চৌধুরী জনাব মাহবুবের সঙ্গে ভারতীয় সাহায্য এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলােচনা করলেন। এই সময় আওয়ামীলীগ নেতা জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ এবং ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম নানা জনপদ ঘুরে ঝিনাইদহে এসে অবস্থান করছিলেন। ৩০শে মার্চ মাহবুব উদ্দিন তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে একটি জীপে করর চুয়াডাঙ্গা আসেন। ঐ দিন সিদ্ধান্ত হয়-তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং মাহবুব উদ্দিন যখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলােচনা করতে যাবেন তখনই এই দুই নেতাকে ভারতে পাঠানাে হবে। ৩০শে মার্চ বিকালে ২টি জীপ গাড়ীতে নেতৃদ্বয়কে নিয়ে তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং মাহবুব উদ্দিন আহমদ সীমান্তের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সন্ধ্যার পর পরই সীমান্তে উভয় দেশের নেতৃবর্গের মধ্যে ব্যাপক আলােচনা হয়। ঐ সভাতে দু’টি সিদ্ধান্ত হয়: এক, আগামী ৩১ মার্চ থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যের জন্যে কিছু কিছু অস্ত্রশস্ত্র দেওয়া হবে, দুই, ভারতীয় সামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃবর্গের যােগাযােগ করিয়ে দিতে হবে। জনাব তাজউদ্দিন এবং ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের উপস্থিতির কথা তখনও গােপন রাখা হয়েছিলাে। মাহবুব উদ্দিন এবং তৌফিক-ই- এলাহী চৌধুরী নিজেরা আলােচনা করে বি, এস, এফ-এর উচ্চপদস্থ অফিসার শ্রী গােলক মজুমদারকে আওয়ামী লীগ নেতৃদ্বয়ের উপস্থিতির কথা বলেন। তখনই নেতৃদ্বয়কে আনতে বলা হলাে। মজুমদার বাবু বললেন, ‘দমদম বিমান বন্দরে সামরিক জেট বিমান অপেক্ষা করছে আওয়ামী লীগ নেতৃবর্গকে নিয়ে যাবার জন্যে।”
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক লেঃ কর্নেল (অব.) এম, এ, ওসমান চৌধুরী সূত্রে শ্রীবিশ্বাস আরও লিখেছেন: “মেহেরপুর মহকুমা প্রশাসক জনাব তৌফিক-ই- এলাহী চৌধুরী, ঝিনাইদহ মহকুমা পুলিশ অফিসার জনাব মাহবুব উদ্দিন এবং ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের অধ্যাপক জনাব শফিকউল্লাহ মেজর ওসমানের নির্দেশে যুদ্ধের ময়দানে অফিসার হিসাবে কাজ করছিলেন। দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনে তখন সামরিক অফিসারের বিশেষ প্রয়ােজন ছিলাে। মেজর ওসমান সেই পরিচালনা করার জন্যে এই ত্রয়ী অফিসারকে সরাসরি ‘ক্যাপ্টেন র্যাঙ্কে’ কমিশন দিয়ে র্যাঙ্ক’ (ব্যাজ?) পরিয়ে দেন। সেক্টর অর্ডারে বলা হলাে:/ “On behalf of the Bangladesh High command (Command?). I, hereby award commission to the following persons directly in the rank of captain to meet operational requirements./a. Mr. Towfique-E-Elahi Chowdhury./ b. Mr. Mahbubuddin Ahmed./c. Mr. Md. Shafiqueullah./ স্বাক্ষর/ (মেজর এম. এ. ওসমান চৌধুরী)।”
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, তৎকালীন মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম জনাব চৌধুরী সম্বন্ধে লিখেছেন: “এদিকে ২৬শে মার্চেই দু’জন বেসামরিক অফিসার মেহেরপুরের এসডিও তৌফিক এলাহী চেীধুরী এবং ঝিনাইদহের এসডিপিও মাহবুব উদ্দিন আহম্মদ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে যােগ দেন। পাকসেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সাহায্যের অনুরোধ জানিয়ে জনাব তৌফিক এলাহী ২৬শে মার্চ ভারতের নদিয়া জেলার ডি- সি’র নিকট চিঠি লেখেন। চিঠিটির একটি প্রতিলিপি ঐ এলাকার বিএসএফ কমান্ডিং অফিসারকেও দেওয়া হয়। ৩০শে মার্চ সকালে জনাব তৌফিক চুয়াডাঙ্গায় মেজর ওসমানের সঙ্গেও যোগাযােগ করেন। সেদিনই মেজর ওসমানের পরামর্শে জনাব তৌফিক এবং মাহবুব উদ্দিন প্রয়ােজনীয় সাহায্যের বিষয়ে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যান।/ এ সময়ে আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী জেনারেল জনাব তাজউদ্দিন (যুদ্ধকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী) কয়েকজন দলীয় নেতাসহ ঝিনাইদহে উপস্থিত হন। জনাব তৌফিক এবং জনাব মাহবুবউদ্দিন বিএসএফ অফিসারদের কাছে আওয়ামী লীগ নেতাদের আগমন বার্তা জানিয়ে দেন। তখনই জনাব তাজউদ্দিন এবং তার সঙ্গীদের প্রথমে কলকাতা এবং সেখান থেকে বিমানযােগে দিল্লী নিয়ে যাওয়া হয়।”
মজিবনগর সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং মুক্তিযােদ্ধা চৌধুরী হাবীবুর রহমান সিদ্দিকী তৎপ্রণীত ও সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ বাঙালী শহীদের রক্তস্রাত স্বাধীনতা নামক গ্রন্থে প্রায় একই কথা লিপিবদ্ধ করেছেন: “তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী (বর্তমানে [১৯৯২] যুগ্ম সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়) তখন ছিলেন মেহেরপুরের মহকুমা প্রশাসক। ২৫শে মার্চেই তিনি পাকিস্তান সরকারের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যােগদান করে(ন)। ২৯শে মার্চ তৌফিই-ই-এলাহী চৌধুরী নদীয়ার জেলা প্রশাসক ও ভারতীয় বিএসএফ বাহিনীর অধিনায়কের সাথে বেতাই সীমান্তে মিলিত হন। সম্ভাব্য ভারতীয় সাহায্য, অস্ত্রশস্ত্র ও গােলাবারুদ সরবরাহের বিষয়টি আলােচিত হয়। এই সময় আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দিন আহমেদ ও ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ঝিনাইদহে এসে উপস্থিত হন। তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী ও মাহবুব উদ্দিন (ঝিনাইদহের এসডিপিও) বিএসএফ-এর কর্মকর্তার সাথে আললাচনাক্রমে নেতৃদ্বয়ের ভারতে যাবার ব্যবস্থা করেন। পরে দমদম বিমানবন্দরে সামরিক বিমানে চড়ে নেতৃদ্বয় নয়াদিল্লী চলে যান।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর বিরল কৃতিত্বের একটি, নবগঠিত মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শপথগ্রহণ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানসূচি প্রণয়ন এবং শপথগ্রহণ শেষে মঞ্চস্থ মাননীয় অতিথিবৃন্দকে সম্মানসূচক গার্ড অব অনার প্রদানকারী দলের নেতৃত্বপ্রদান। এ সম্পর্কে ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম লিখেছেন: “১৭ই এপ্রিল জাতীয় ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের দিন ।.. ভােরের দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মােশতাক আহমদ, এম, মনসুর আলী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান এবং ওসমানী একটি গাড়ীতে রওয়ানা হয়ে যান। শপথ অনুষ্ঠানের নির্ধারিত স্থান আম্রকাননে পৌছতে ১১টা বেজে গেল। অনুষ্ঠানের আয়ােজন প্রায় শেষ। মাহবুব (এসডিপিও) ও তওফিক এলাহী অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।”
মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথায় তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী একটি উজ্জ্বল নাম। তিনি সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে অবসরে যান তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বিষয়ক উপদেষ্ঠা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সাদাপোশাকধারী পুলিশ তৌফিক ইলাহী চৌধুরীকে তাঁর বনানীর বাড়ি থেকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অফিসে নিয়ে যায়।
পরের দিন ভোরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জনাব চৌধুরীকে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তর বাড্ডায় বিক্ষোভের সময় সুমন সিকদার নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রায় দুই বছর থেকে ৮১ বছর বয়সী এই প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি।
মুজিবনগর দিবসের সঙ্গে মানুষটির নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃস্টির ইতিহাসে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রমের মুক্তির দাবি জানাই ।
