মানিকগঞ্জে স্বামীকে আটক করে এক নারীকে ধর্ষণ করেছে নিরাপত্তাকর্মীরা। গত রবিবার গভীর রাতে হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে শাহাদাত হোসেন (৩২) এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ (২৬) কে আটক করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জানান, তাঁদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তিনি নিজের অটোরিকশায় স্ত্রীকে নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশার ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্বামী-স্ত্রী আশ্রয় নেন মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে।
হাসপাতালের ফটকে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাত হোসেন ও আবু সাঈদ তাঁদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে নিচতলায় নিয়ে যান। রাত প্রায় ৩টার দিকে ওই দুই আনসার সদস্য দম্পতির কাছে এসে তাঁরা আসলেই স্বামী-স্ত্রী কি না সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ভুক্তভোগী নারীকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান।
এ সময় একজন আনসার সদস্য নিচতলায় থেকে ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় তলা থেকে একজন আনসার সদস্য নিচে নামলে অপরজন আবার ভুক্তভোগী নারীর কাছে যান।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, দীর্ঘ সময় আমার স্ত্রী ফিরে না আসায় আমি ওপরে যেতে চাইলে একজন আনসার সদস্য আমাকে আটকে রাখে। পরে দ্বিতীয় তলা থেকে আমার স্ত্রী নিচে নেমে জানায়, ওই দুই আনসার সদস্য তাকে ধর্ষণ করেছে।
তিনি আরও জানান, ভোরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে ঘটনাটি জানানো হয়। পরে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, মাঝরাতে নিরাপত্তার আশায় আমরা হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছিলাম। অথচ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরাই আমার ওপর এমন নৃশংসতা চালাবে, তা কল্পনাও করিনি। আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন সমকালকে বলেন, ভুক্তভোগী নারীকে হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মানিকগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্ট কামরুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই অভিযুক্তরা যেন সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি ইকরাম হোসেন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে দুই আনসার সদস্য ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়নি, তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
