রাউজানে সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ির বাইরে থেকে খিল দিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর এবার লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ৭টি বসতবাড়িতে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৫ই জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন বাজার সংলগ্ন দেওপাড়া গ্রামের কামারবাড়ি এবং হাজিরপাড়া ইউনিয়নের বড় বল্লভপুর গ্রামের ঠাকুরবাড়িতে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চন্দ্রগঞ্জ বাজারসংলগ্ন দেওপাড়া গ্রামের কর্মকার বাড়িতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে কলাপসিবল গেটের ভেতরে রাখা পাপোশসহ বিভিন্ন জিনিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন চন্দন কর্মকার, রাখাল কর্মকার, শংকর কর্মকার, খোকন কর্মকার ও দিলীপ কর্মকার। বাড়ির লোকজন আগুনের আঁচ টের পেয়ে দ্রুত পানি ঢেলে তা নিভিয়ে ফেলেন।
পরদিন শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হাজিরপাড়া ইউনিয়নের বড় বল্লভপুর গ্রামের ঠাকুরবাড়িতে বিধান ঠাকুরের ঘরের ভেতরে এবং ঘরের সামনের লাকড়ির স্তুপে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরানো হয়। ঘরের লোকজন চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা এসব অগ্নিসংযোগ করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বিএনপি-জামায়াত আমলে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর নৃশংসতার ৪০৯২টি ঘটনা
এদিকে লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. রেজাউল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করতেই এই ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানান।
