রূপপুর-আদানি-মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে শেখ হাসিনার সরাসরি কোন সম্পৃকতা বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোন অর্থের লেনদেন পায়নি অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় কমিটি।
রোববার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কমিটির তৈরি প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে জাতীয় কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, আদানির চুক্তির কারণে বেড়েছে বিদ্যুতের দাম, যা সরকারের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
কমিটির সদস্য ও ইউনির্ভাসিটি অব লন্ডনের ফ্যাকাল্টি অব ল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান বলেন, আদানির চুক্তিতে ‘সাংঘাতিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য’ মিলেছে। এসব তথ্য আদানিকে জানিয়ে তাদের ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত। এরপর দ্রুত সিঙ্গাপুরে চুক্তি সংক্রান্ত সালিশি মামলার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তার ভাষ্য, “বিলম্ব হলে আমাদের মামলা আইনি কারণে দুর্বল হয়ে যাবে। লন্ডনের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এত ভালো তথ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুর্নীতি মামলায় বিরল।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চুক্তির সঙ্গে জড়িত সাত থেকে আটজন ব্যক্তির অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে কয়েক মিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ট্রাভেল ডকুমেন্টসহ এসব তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দেওয়া হয়েছে এবং দুদক ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
এরমধ্যে শেখ হাসিনার নাম না থাকলেও কাদের নাম আছে সেটাও প্রকাশ করেনি তদন্ত কমিটি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ এর আওতায় হওয়া চুক্তিগুলো পর্যালোচনায় অন্তর্বর্তী সরকার এ কমিটি গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ২০২১ সালে সংশোধিত আইনটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ‘ইনডেমনিটি আইন’ হিসেবে পরিচিত।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১০ সালে প্রথমে দুই বছরের জন্য আইনটি প্রণয়ন করে। পরে ২০১২ সালে দুই বছর, ২০১৪ সালে চার বছর, ২০১৮ সালে তিন বছর এবং সর্বশেষ ২০২১ সালে পাঁচ বছরের জন্য এর মেয়াদ বাড়ানো হয়।
চব্বিশের আন্দোলনের পর ওই আইনের আওতায় সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনায় ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয় হাই কোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবদুল হাসিব চৌধুরী, কেপিএমজি বাংলাদেশের সাবেক সিওও আলী আশরাফ, বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন এবং অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়, তারা যেকোনো সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় নথি নিরীক্ষা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে শুনানিতে আহ্বান এবং চুক্তিতে সরকারের স্বার্থ রক্ষা হয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারবে।
