সুষুপ্ত পাঠক
জামাত ইসলাম তালিমের খালাম্মাদের দিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক চিত্রই পাল্টে দিতে সক্ষম হয়েছে। তালিমের সঙ্গে জড়িত অনেক মহিলাই জানে না তারা জামাতের নেটওয়ার্কে কাজ করছে, তারা মনে করে দ্বিন-ইসলাম প্রচার করছে। জামাতের গুপ্ত রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী নেটওয়ার্ক হচ্ছে তালিম।
বাংলাদেশে বিবাহিত নারীদের পোশাক ছিল শাড়ি। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে মুসলিম নারীদের মধ্যে এখন শাড়ি পরে বোধহয় ১ পার্সেন্টেরও কম! দেখুন, পোশাক নিয়ে আমার কোন জাতীয়তাবাদী বা দর্শনগত অবস্থান নেই। যার যা ভালো লাগবে তারা সেটা পরবে। কিন্তু তালিমের খালাম্মরা এটা প্রচার করেছে শাড়ি পরলে মাটি লজ্জাস্থান দেখে ফেলে তাই পায়জামা পড়তে হবে! শাড়ি হচ্ছে হিন্দুদের, মুসলমান মহিলাদের পোশাক হচ্ছে সালোয়ার কামিজ।
তালিমের বড় কাজটি হয়েছে তৃণমূলে প্রাইমেরী ও হাইস্কুলকে শেষ করে দেয়া। বিশেষত প্রাইমেরি শিক্ষাকে তারা শেষ করে দিতে সফল হয়েছে মাদ্রাসা দিয়ে। মহিলা মাদ্রাসার এত চাহিদা এ কারণেই। তাদের বড় কাজটি হচ্ছে সংস্কৃতি চর্চাকে হারাম হিসেবে তৃণমূলে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। মুসলমান ছেলেমেয়েদের জন্য গান গাওয়া, বাজনা বাজানো, ছবি আঁকা এইসব হাশরের ময়দানে কঠিন শাস্তি ডেকে আনবে। ফলে আজকে নতুন কুঁড়িতে মুসলিম বাচ্চাদের এত অল্প পরিমাণে দেখতে পান। খুব দ্রুত স্কুলে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মত (যদি ততদিনে জাতীয় সংগীত বলতে কিছু থাকে আর কী!) কোন মুসলিম ছেলেমেয়ে পাওয়া যাবে না। হারমনিয়াম তবলা বাজাতে পারে ক’টা মুসলিম ছেলেমেয়ে স্কুলে খোঁজ নিয়ে দেখুন।
তালিম জামাতের গুপ্ত নেটওয়ার্ক হিসেবে আওয়ামী লীগ কমিউনিস্ট সবার অন্দরমহলে গিয়ে ঢুকেছে। তাই কমিউনিস্ট নেতার বউ হয়েছে পাক্কা জামাতী। লীগের নেতার বউ সাঈদীর জন্য মোনাজাত ধরে! নেপোলিয়ান তো বলেছিলেনই, আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি উপহার দিবো। জামাত এটাকে মাথায় নিয়েছে আপনারা নেননি। তাই জামাতী মা থেকে জঙ্গি পুত্রই বের হবে। হয়েছে সেটাই।
জামাত এখন নির্বাচন প্রচারণায় তালিমের মহিলাদের নামিয়েছে, মহিলা জনসভার ঘোষণা দিয়েছে। জামাত কোন রাজনৈতিক দল নয়। জামাত হচ্ছে ইসলামি গ্যাং পার্টি। মাফিয়া পার্টি। এদের বিরুদ্ধে কিভাবে জিতবেন? আমি বললে তো শুনবেন না। উল্টো ইসলাম বিদ্বেষী বলবেন। আপনি কি জানেন আরব বিশ্বে তাবলীগ জামাত, তালিম এইসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ? কারণ বাদশাহরা জানে ধর্মকর্ম প্রচারের নামে তারা সৌদি শাসকদের উত্খাতের প্রচারণা চালাবে। তাহলে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখতে আমরা কেন তাবলীগ ও তালিম নিষিদ্ধ করবো না? সমাধান বুঝেছেন? এটাই সমাধান।
