আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আক্রান্ত হওয়ার দেড় বছর পর ফটকের সামনে বঙ্গবন্ধু ছবি ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে যুব মহিলা লীগের একদল নেত্রী।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সংগঠনের ১০-১২ জন নেতাকর্মীকে ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের ৫১ নম্বর বাড়িটির সামনে দেখা যায়।
যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমবি কানিজ বলেন, “বত্রিশ নম্বর সড়কসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গত দেড় বছর ধরেই মিছিল করে আসছি, আমাদের সঙ্গের অনেকেই এখনও জেলে আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সবসময় পুলিশের উপস্থিতির পাশাপাশি মব সন্ত্রাসীদের জন্য আসা কঠিন। আজকে যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা একটু রিস্ক নিয়েই গিয়েছি’’।
তিনি আরও বলেন, “আমরা রাজপথে আছি, থাকবো। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ দিলে সারা দেশের যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে পড়বে। আজকে আমরা গেটে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও জাতীয় পতাকা টানিয়েছি, সেই দিন বেশি দূরে নয়, আবারও ধানমন্ডির এই আওয়ামী লীগ অফিস আবারও মুখরিত হয়ে উঠবে। শেখ হাসিনার কর্মীরা মৃত্যু, জেল ঝুলুমকে বরণ করে নিয়েই রাজনীতি করে।”
ধানমন্ডির এই আওয়ামী লীগ অফিস আবারও মুখরিত হয়ে উঠবে–এমন আশার কথাও তিনি বলেন।
২০০২ সাল থেকে ভবনটি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহাহৃত হয়ে আসছিল। তিন তলা এ ভবনটিতে দলীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের জন্য কক্ষ ছিল।
দ্বিতীয় তলায় ছিল দলের মুখপত্র উত্তরণের অফিস। এ ছাড়া তৃতীয় তলায় আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যক্রম চলত।
প্রথমে ভাড়া নেওয়া হলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ভবনটি দলের নামে কিনে নেওয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে পাশের চার তলা দুটি ভবন কিনে দলীয় সভাপতির কার্যালয়টির সম্প্রসারণ করা হয়।
সে সময় ভবন দুটি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে কেনা হয়। এই দুই ভবনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকমণ্ডলীর নেতারা এবং কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যরা বসতেন। এখানকার একটি কক্ষে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রকাশনা বিক্রির স্টল ছিল।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনাবসান ঘটে। সেদিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন চলে যায় জনতার দখলে। সেখানে ব্যাপক ভাংচুর-লুটপাট চলে।
সেদিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়েও হামলা হয়। ওই কার্যালয়ের তিনটি ভবনে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
প্রায় ছয় মাস পর স্থানীয় কিছু নেশাগ্রস্ত যুবক ওই পোড়া ভবনকে তাদের আশ্রয় হিসেবে বেছে নেয়। আবার স্থানীয় কিছু লোককে ভবনটি ঘিরে পাহারা দিতে দেখা যেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কেউ সেখানে গেলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর দাবিতে গতবছর মে মাসে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সব সংগঠনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই হিসেবে যুব মহিলা লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।
সেই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বৃহস্পতিবার সকালে ১০-১২ জন নেত্রী বঙ্গবন্ধুর ছবি ও জাতীয় পতাকা নিয়ে উপস্থিত হন আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে। সেখানে কিছুক্ষণ স্লোগান দিয়ে তারা আবার চলে যান।
