তেহরান/দোহা, ২ মার্চ ২০২৬: ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে যে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ (Operation True Promise 4)-এর ১২তম ওয়েভ (phase/wave) এখন চালু হয়েছে। এই অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যৌথ হামলার (অপারেশন এপিক ফিউরি) প্রতিক্রিয়া হিসেবে চলছে, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।
আইআরজিসি-র পাবলিক রিলেশনস অফিসের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “১২তম ওয়েভ অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪-এর অংশ হিসেবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সম্মিলিত, বড় মাপের ও তীব্র আক্রমণ চালানো হচ্ছে।”
এই ওয়েভে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের মার্কিন সামরিক তথ্য কেন্দ্র, গুদাম, কুয়েত ও বাহরাইনের ঘাঁটি, তেল আভিভের সরকারি কমপ্লেক্স, হাইফা ও পূর্ব জেরুজালেমের সামরিক-নিরাপত্তা স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে।
অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪-এর পটভূমি ও ওয়েভসমূহ
অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪ হলো ইরানের চতুর্থ বড় সরাসরি প্রতিশোধমূলক অভিযান (পূর্ববর্তী: ট্রু প্রমিস ১-৩)। এটি ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত ১২টি ওয়েভে বিভক্ত।
আইআরজিসি-র বিবৃতি অনুসারে:
প্রথম ওয়েভ: মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত (বাহরাইনের ইউএস ফিফথ ফ্লিটসহ)।
তৃতীয়-চতুর্থ ওয়েভ: উন্নত মিসাইল (খাইবার শেকান) ব্যবহার করে আরও নির্ভুল আক্রমণ।
পঞ্চম-ষষ্ঠ ওয়েভ: ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবহরের জাহাজ (যেমন অ্যামুনিশন বহনকারী এমএসপি শিপ) ও কুয়েতের আব্দুল্লাহ মুবারক এলাকার ঘাঁটিতে ড্রোন-মিসাইল হামলা।
সপ্তম-অষ্টম ওয়েভ: পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন-ব্রিটিশ তেল ট্যাঙ্কারে আঘাত, বাহরাইন ও কুয়েতের ঘাঁটি বন্ধ।
নবম-দশম ওয়েভ: খাইবার মিসাইল দিয়ে তেল আভিভের সরকারি কমপ্লেক্স, হাইফা ও পূর্ব জেরুজালেমে আক্রমণ।
একাদশ ওয়েভ: বিয়ারশেবা (Beersheba) এর ইসরায়েলি যোগাযোগ শিল্প কমপ্লেক্সসহ ২০+ স্থানে হামলা।
১২তম ওয়েভ: চলমান—আইআরজিসি বলছে, নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে মার্কিন-ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আরও তীব্র আঘাত।
আইআরজিসি দাবি করেছে যে, এই অভিযানে শতাধিক মার্কিন সেনা নিহত/আহত হয়েছে, একাধিক ঘাঁটি বন্ধ হয়েছে এবং ইসরায়েলের আকাশপথ ‘আমাদের মিসাইল-ড্রোনের জন্য উন্মুক্ত’। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এসব দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের অভাব উল্লেখ করে অনেকগুলো হামলা অস্বীকার বা হালকা করে দেখিয়েছে।
প্রভাব ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই ১২তম ওয়েভের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলের দাম আরও বেড়েছে, জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে যে, অভিযান চলবে “শত্রুর আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত”। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সামরিক নেতৃত্ব “ধ্বংস” হয়েছে, কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলা অব্যাহত। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া জরুরি অধিবেশন ডেকেছে।পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির। আইআরজিসি-র বিবৃতি অনুসারে, আরও ওয়েভ আসতে পারে।
