যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের দেওয়া জবাবকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করলেও তা নিয়ে ভ্রুক্ষেপ করছে না তেহরান।
সোমবার (১১ মে) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘স্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো উস্কানি বা আক্রমণের দাঁতভাঙা জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। গালিবাফ আরও সতর্ক করে দিয়েছেন, তেহরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হাতে রেখেছে এবং তাদের বিরোধীরা পরিস্থিতির আকস্মিকতায় ‘বিস্মিত’ হবে।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কোনো গুরুত্ব তাদের কাছে নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটির মতে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তখন বুঝতে হবে যে সেই পরিকল্পনাটি প্রকৃতপক্ষে কার্যকর ও ভালো।
তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, ট্রাম্পের সন্তুষ্টির কথা চিন্তা করে ইরানি প্রতিনিধিরা কোনো কাজ করছেন না। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের পাঠানো জবাবটি তার কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সংঘাতের এই আবহে ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানান, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই বিষয়ে দীর্ঘ ও চমৎকার আলোচনা করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি একান্তই তার ব্যক্তিগত এখতিয়ার।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে মূলত যুদ্ধ বন্ধ করা, দেশটির ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা প্রস্তুতির ঘোষণা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে নতুন করে হুমকির মুখে ফেলেছে। ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুল কৌশলের ফল যে সারা বিশ্বের জন্য খারাপ হবে, স্পিকার গালিবাফ তার বার্তায় সেই ইঙ্গিতই প্রদান করেছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
