পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে আরও কঠোরভাবে সরকারী এনভয় হস্তক্ষেপ করেছে, যার ফলে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমানের-এর প্রশাসনিক ক্ষমতার বড় একটি অংশ কার্যত বিশেষ এনভয়দের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ১৭ মার্চ প্রকাশিত লোকাল গর্ভমেন্ট বেস্ট ভেল্যু প্রতিবেদনে হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রীড-জানান, এখন কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন সরকারি ইন্সপেক্টররা।
নতুন ব্যবস্থায় ইন্সপেক্টররা কাউন্সিলের আর্থিক সিদ্ধান্ত, সিনিয়র কর্মকর্তাদের নিয়োগ এবং বিভিন্ন সেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে সরাসরি সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারবেন। অর্থাৎ, পূর্বের মতো এককভাবে মেয়রের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আর থাকছে না; বরং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এখন সরকারের তদারকি বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে।
এদিকে মেয়রের তত্ত্বাবধানে থাকা বিদ্যমান ওভারসাইট বোর্ড বাতিল করে দেওয়া হয়েছে এবং তার পরিবর্তে এনভয়দের নেতৃত্বে একটি নতুন ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ড সরাসরি সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং কাউন্সিলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে, যা স্থানীয় প্রশাসনের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকে আরও জোরদার করছে।
সরকারি ইন্সপেক্টররা ইতোমধ্যে কাউন্সিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছেন। বিশেষ করে হাউজিং, অনুদান বণ্টন, প্ল্যানিং ও লাইসেন্সিং সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে, এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব বিষয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এতে অতীতের সিদ্ধান্তগুলোও নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।
এছাড়া কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ উঠে এসেছে। একটি স্টাফ জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩১ শতাংশ কর্মী মনে করেন তারা কর্মস্থলে নিরাপদভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন না। এই তথ্য প্রশাসনের সংস্কৃতি ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
আর্থিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। কাউন্সিলের নিজস্ব অডিটর ইতোমধ্যে চারটি গুরুতর সতর্কতা জারি করেছে, যা এখনো সমাধান হয়নি। এমনকি এসব সমস্যার সমাধান ২০২৮ সালের আগে সম্ভব হবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
সবচেয়ে কড়া সমালোচনা এসেছে নেতৃত্বের ধরন নিয়ে। সরকারি এনভয়দের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাউন্সিলের নেতৃত্ব বাস্তব সমস্যার সমাধানে মনোযোগী না হয়ে বরং “বার্তা নিয়ন্ত্রণ” বা ইমেজ ম্যানেজমেন্টে বেশি ব্যস্ত। এই মন্তব্য সরাসরি মেয়র লুৎফুর রহমানের-এর নেতৃত্বের ওপর চাপ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সামনে নির্বাচন থাকায়, এই হস্তক্ষেপ এবং সমালোচনাগুলো সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
