বরাবর,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
শুভেচ্ছা জানবেন। আমি আপনাকে আজ এমন একজনের কথা মনে করিয়ে দিতে লিখছি, যিনি আপনার সংসদেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াতপন্থীদের চোখে তিনি হয়তো ‘জিন্দা ওলি’, আবার অনেকের কাছে তিনি অন্য কোনো বিশেষণে পরিচিত। কিন্তু আমি তাঁকে স্রেফ একজন রাজনীতিক হিসেবেই দেখি। একাত্তরের গণহত্যার দায়ভার বহনকারী দল জামায়াতে ইসলামীর এই আমিরের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড আমাদের স্তম্ভিত করেছে।
আগে বারবার তিনি নির্বাচনে জামানত হারিয়ে এবার প্রথমবারের মতো এমপি হয়েছেন; হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা। নির্বাচনের আগে সরকারি কোন সুবিধা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, নির্বাচনের পরে তিনি নিচ্ছেন সকল ধরনের সরকারি সুবিধা। তাঁর এ সরকারি সুবিধা নেওয়াকে আমি দোষের কিছু দেখি না, এটা নিতেই পারেন তিনি। তবে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি কেবল আগের প্রতিশ্রুতিকে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
ডা. শফিকুর রহমানের কেতাদুরস্ত পোশাকের চেয়েও এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর ‘স্পর্শকাতর’ আচরণ। তিনি ছেলেশিশুদের জোর করে চুমু খান, লা-মাহরাম নারীদের বুকে জড়িয়ে নেন; অথচ রাজনীতি করেন ধর্মের নামে। যদিও তিনি প্রচলিত ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত নন, তবু তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির সিপাহশালার। রমজান মাসে তিনি ছেলেশিশুদের ঘাড়ে একের পর এক চুমু দিয়েছেন, এর আগে দিয়েছেন ঠোঁটে। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের একজন ছাত্র হিসেবে জানা কথা জোর করে তাঁর চুমু খাওয়ার স্থানগুলো যৌন সংবেদনশীল অংশ। তিনি শারীরবৃত্তীয় বিদ্যা ভালো জানেন বলে এটা নিশ্চয় তাঁর অজানা থাকার কথা নয়। তিনি প্রবল বিক্রমে এগুলো করে চলেছেন।
একই আচরণের এই যে অদ্ভুত ধারাবাহিকতা—তা কি তবে কোনো ‘সেক্সুয়াল স্যাডিজম’ বা ‘প্যারাফিলিক ডিসঅর্ডার’-এর বহিঃপ্রকাশ? তাঁকে কেন ‘পেডোফাইল’ হিসেবে সন্দেহ করা হবে না? কারণ, তাঁর এই চুম্বনের আবেগ কেবল তাঁর চেয়ে বয়সে অনেক ছোট বা শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সমবয়সী কাউকে তো তিনি এমন প্রবল ভালোবাসায় সিক্ত করেন না! আপনি নিশ্চয় জানেন এমন রোগীরা সাধারণত নিজেদের চেয়ে কম বয়েসিদের টার্গেট করে থাকে।
সর্বশেষ একটি টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি একজন বিদেশিকে পেছন থেকে জাপটে ধরেছেন। এটি কেবল অসংলগ্ন আচরণ নয়, বরং সরাসরি রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন। সভ্য পৃথিবীতে যেখানে ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, সেখানে একজন বিরোধীদলীয় নেতার এমন ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ কি আমাদের জাতীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে না?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
ডাক্তারি পাস করলেই কেউ মানসিক বা আচরণগত ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকেন না। চিকিৎসকেরাও অসুস্থ হতে পারেন। ডা. শফিকুর রহমান কি তবে কোনো গভীর মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন? তাঁকে এভাবে বেপরোয়াভাবে চলতে দেওয়ার মাধ্যমে কি সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না? রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও লৌকিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে তাঁর ‘চিকিৎসা’ বা ‘সংবরণ’ এখন সময়ের দাবি।
দেশের সংসদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে বসে এমন বিকৃত আচরণের মহড়া বন্ধ করতে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। জাতীয় সংসদের মর্যাদাকে কলঙ্কিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব কি আপনার নয়?
বিনীত,
কবির য়াহমদ
বাংলাদেশের নাগরিক
