নাজমুন নাহার
এটি একটি ভয়ঙ্কর দৃশ্য! দৌলতদিয়া ঘাট। শিশুটি নদীর পানির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করছে- “মা… মাগো… মা…ও মা……!” আহা কি কষ্টের দৃশ্য! এই আর্তনাদ এই চিৎকার আমাদের সিস্টেমকে কি নাড়া দিচ্ছে?
ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে গেল একটি যাত্রীবাহী বাস। কি এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা!
ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ছোট্ট বাচ্চা পানির মধ্যে সাঁতরাচ্ছে। বয়স আনুমানিক নয় থেকে দশ বছর। পরনে সাদা পায়জামা, গায়ে খয়েরি রঙের পাঞ্জাবি। চারপাশে আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলার মধ্যেও বাচ্চাটি অসাধারণ সাহস নিয়ে সাঁতরে যাচ্ছিল। পানির মধ্যে থেকে সে খুব দ্রুত এগিয়ে আসছিল পাড়ের দিকে বাঁচার জন্য। কিছুক্ষণ পর উপরে থেকে কেউ একজন একটি লাল গামছা এগিয়ে দেয়। বাচ্চাটি সেটি শক্ত করে ধরে, আর সেই গামছার সাহায্যে তাকে উপরে তুলে আনা হয়।
কিন্তু উপরে ওঠার পর দৃশ্যটি ছিল আরও হৃদয়বিদারক। এক কোণায় দাঁড়িয়ে, ভেজা কাপড়ে কাঁপতে কাঁপতে সে নদীর দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে তার মাকে ডাকতে ডাকতে। তার চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল আর মা বলে বুক ফাটা কি চিৎকার।
মা কোথায়? সে কি বেঁচে আছেন, নাকি এই নদীর পানিতেই তলিয়ে গেছেন?
একজন সন্তানের এই ডাক কতটা আর্তনাদময়। তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা জানি না, তার মা সেই ডাক শুনতে পেরেছেন কিনা। হয়তো তিনি জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, কিংবা হয়তো পদ্মার অতলেই হারিয়ে গেছেন।
এই ছোট্ট বাচ্চাটির বুকফাটা কান্না যেন আকাশ ভেদ করে উপরে পৌঁছে যায়—কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, আমাদের ব্যবস্থার কাছে এই চিৎকারগুলো কেন পৌঁছায় না?
সড়ক ও নৌপথে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। তবুও আমাদের সচেতনতা কেন বাড়ছে না?
লেখক: পর্যটক।
