২০২৬-এর স্বাধীনতা দিবসে পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র ‘রাইজিং সাইলেন্স’। ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যৌন সহিংসতার শিকার বীরাঙ্গনা নারীদের জীবনের উপর দৃষ্টিপাত করেছে। এই ছবিতে বীরাঙ্গনা নারীরা তাঁদের সত্য উচ্চারণ করেছেন অসীম বেদনায় ও অকুতোভয়তায়: যে মানসিক ক্ষত তাঁরা প্রতিনিয়ত বয়ে বেড়ান, যে ঘৃণা, অবজ্ঞা, অশ্রদ্ধা তাঁরা সয়ে যান আর যে শক্তি ও দৃঢ়তায় তাঁরা প্রতিটা দিনের মোকাবেলা করেন,- এইসব, সব তাঁরা বলেছেন।
রাইজিং সাইলেন্স অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে (এশিয়ার বাইরে) স্ট্রিমিং হচ্ছিল, কিন্তু এখন তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে আমাদের বলা হয়: “কিছু দর্শক আপত্তি জানিয়েছেন।”
এই ‘আপত্তির’ কথা আমরা আগেও বহুবার শুনেছি, ক্ষমতার আসনে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে শুনেছি, রাজনৈতিক নেতাদের মুখে শুনেছি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নানান উৎসবে তাঁদের নির্মমভাবে অবহেলিত, অচ্ছুৎ হতে দেখেছি। এমনকি বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে তাঁদের অস্তিত্বের প্রমাণ পর্যন্ত মুছে ফেলার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা নিতে দেখেছি এবং আজও দেখছি।
সাম্প্রতিক দিনগুলিতে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের সম্মানে সংসদে শোক প্রস্তাব পাস হয়েছে; ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর জন্য মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন; মুক্তিযোদ্ধারা হয়রানির শিকার হয়েছেন; গণমাধ্যমে, টক শো-তে মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা ও গণধর্ষণ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে; এবং বীরাঙ্গনা নারীরা ও মুক্তিযোদ্ধারা আবারও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজন, রিজিয়া বেগম মোহন, যিনি এই চলচ্চিত্রে তাঁর আতশী বয়ান ব্যক্ত করেছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে তাঁর বাড়িতে এক হিংস্র মব হামলার পর গভীর মর্মবেদনায় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মারা যান।
দেশে যখন আমাদের এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, তখন ভুক্তভোগীদের কণ্ঠরোধ করার জন্য বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা আমরা কীভাবে শুরু করবো? ( লীসাগাজীর ফেইসবুক থেকে)
