ইব্রাহিম চৌধুরী
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান থেকে সরে যাবে। তিনি বলেছেন, নিশ্চিত হওয়া দরকার যে ইরান আর “কয়েক বছরের জন্য” পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান “ডিল করার জন্য ভিক্ষা করছে” — কিন্তু চুক্তি হোক বা না হোক, এটি আমেরিকার নির্ধারিত সময়সীমার সঙ্গে “অপ্রাসঙ্গিক।”
৩১ মার্চ মঙ্গলবার ওভাল অফিসে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের প্রচণ্ডভাবে আঘাত করছি। গত রাতে আমরা বিশাল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির স্থাপনা ধ্বংস করেছি।” তিনি আরও বলেন, “সম্ভব যে আমরা এর আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। তারা আলোচনায় আসলে ভালো হবে। কিন্তু তারা আসুক বা না আসুক — আমরা তাদের পিছিয়ে দিয়েছি।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য একটি দ্বৈত কৌশলের ইঙ্গিত দেয় — একদিকে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখা, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের দরজা খোলা রাখা।
ইরানের পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যদি তাদের শত্রুরা নিশ্চয়তা দেয় যে যুদ্ধ আর জ্বলে উঠবে না, তাহলে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তেহরানের “প্রয়োজনীয় ইচ্ছা” রয়েছে। এই বক্তব্য প্রথমবারের মতো ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার সম্ভাবনার একটি সরাসরি স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরান এখনো স্পষ্ট করেনি কোন শর্তে তারা আলোচনায় বসতে রাজি।
এই কূটনৈতিক ইঙ্গিতের মধ্যেও মাঠে হামলা থামেনি। ইসফাহানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একাধিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এই হামলায় উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অভিযান ইতোমধ্যে তার মূল উদ্দেশ্য অনেকটাই অর্জন করে ফেলেছে।
লেবাননেও ইসরায়েলি হামলা থামেনি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাত জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা বৈরুতে দুটি পৃথক হামলায় একজন হিজবুল্লাহ কমান্ডার এবং আরেকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প এবার ব্রিটেন ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর প্রতি কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “তোমরা গিয়ে হরমুজ থেকে নিজেদের তেল নিজেরা নাও। যেভাবে আমাদের দরকারের সময় তোমরা ছিলে না, সেভাবে আমেরিকাও আর সেখানে থাকবে না।” এই বক্তব্য ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র এখন এরকম — ট্রাম্প চাইছেন দ্রুত বেরিয়ে আসতে, ইরান শর্তসাপেক্ষে আলোচনায় আগ্রহী, কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি এবং মাঠে যুদ্ধ চলছে পূর্ণ গতিতে। হোয়াইট হাউস কোনো নির্দিষ্ট কূটনৈতিক আলোচনার ঘোষণা দেয়নি বা সম্ভাব্য চুক্তির কোনো রূপরেখাও প্রকাশ করেনি। ফলে ট্রাম্পের “দুই থেকে তিন সপ্তাহ” কথাটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো সম্পূর্ণ অস্পষ্ট।
