ইমতিয়াজ মাহমুদ
সরকার কেন সিদ্ধান্ত নিবে চারুকলার শোভাযাত্রাটির নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে নাকি অন্য কিছু হবে? সরকারকে এই ক্ষমতা কে দিয়েছে? এটা তো সরকারী কর্মসূচী নয়, কোনদিনও সরকারী কর্মসূচী ছিল না। তাইলে সরকার কেন এটাতে হস্তক্ষেপ করবে? না, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব- সেটার জন্যে পুলিশ নানারকম পদক্ষেপ নেয়, আয়োজকদের সাথে কথা বলে, নানারকম নির্দেশনা দেয়। এগুলির আইনগত ভীতি আছে, রাজনইতক বা নৈতিকভাবেও এইগুলি বোধগম্য। কন্তু কর্মসূচীর শিরোনাম বা কন্টেন্ট নিয়ে কোনপ্রকার হস্তক্ষেপের ক্ষমতা তো সরকারের নাই।
একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি সরকার হন বা সরকারের কোন অংশ হন বা যতবর ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠানই হন, কোন আইন যদি সুস্পষ্টভাবে সরকারকে এই ক্ষমতা না দেয়, তাইলে নাগরিকদের কোন কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করার অধিকার সরকারের বা ঐরকম কোন সংস্থার নাই। কথাটা মনে রাখবেন-আইনে যদি সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতা দেওয়া না থাকে তাইলে সরকার আপনার আমার কোন কর্মকাণ্ডে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কেননা আমাদের প্রতিদিনের প্রতিটি কর্মকাণ্ডই আমাদের অধিকারের প্রয়োগ এবং দেখবেন সেইসব কর্মকাণ্ড কোন না কোনভাবে মৌলিক অধিকার হিসাবে সুরক্ষিত।
ভাল মন্দের প্রশ্ন নয়। কেননা একটি কর্মসূচীকে আপনি মঙ্গল শোভাযাত্রা বলা হবে নাকি অন্য কোন নামে ডাকা হবে, কোন নামে দাকাটা উত্তম হবে কোনটা সুন্দর হবে না এই নিয়ে নানাজনে নানা মত হবে এটাই স্বাভাবিক। উদ্যোক্তারা একা নাম দিলে সেটা অনেকেরই পছন্দ হবে না এটাও অস্বাভাবিক নয়। হোক। যারা উদ্যোক্তা আয়োজক অংশগ্রহণকারী ওরা মিলে একটা নাম দিয়েছে, সেই নামে এতদিন চলেছে, সেই নামে দুনিয়াজুড়ে সকলে জেনেছে, আপনি কেন সেই নামটা বদলে দিবেন। আপনার যদি পছন্দ না হয়, আপনি যাবেন না সেই কর্মসূচীতে। ব্যাস।
আইনগত দিক তো একটা। রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবেও সরকারের এইধরনের হস্তক্ষেপ যে অন্যায় ও অবৈধ সেটা কি করে বুঝবেন। সরকার কেন সাংস্কৃতিক কর্মসূচীর ধরণ বা কন্টেন্ট ইত্যাদিতে হস্তক্ষেপ করে? এইটা ভেবে দেখেন, তাইলে আপনি এইরকম কাজের নৈতিক বৈধতাহীনতা বুঝতে পারবেন। সরকার এইরকম হস্তক্ষেপ করে ওদের নিজেদের রাজনৈতিক মতলব ও দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের সর্বস্তরে চাপিয়ে দেওয়া এবং ওদের পছন্দ নয় এরকম সাংস্কৃতিক আচরণ দমন করার উদ্দেশ্যেই এইরকম কাজ করে। অর্থাৎ, সরকার যেটা পছন্দ না করে সেটা যেন কেউ করতে না পারে।
আপনি তো ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞা জানেন, ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট্য জানেন। ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর পছন্দ নয় এমন কোন কাজ আচরণ বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ওরা করতে দেয় না। বাকিটা আরও কি বলবো? কাউকে যদি ওদের পছন্দমতো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া না হয়, সেইগুলিতে সরকারের এই ধরনের হস্তক্ষেপ একটি ফ্যাসিস্ট আচরণ।
