দ্য পেপার ট্রেইল: কীভাবে ওয়াশিংটন ৩২৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতে!
আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা CSB news এর প্রতিবেদন হুবহু তুলে ধরা হলো:- (বাংলায় অনুবাদ)
একটি নথিভিত্তিক প্রমাণ আছে। এটি মিথ্যা বলে না।
যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের তথাকথিত “গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান” নিয়ে শোকগাথা লিখতে ব্যস্ত ছিল, তখন অন্য এক নীরব গল্প জমা হচ্ছিল—অনুদান ডেটাবেসে, কংগ্রেসের সাক্ষ্যে, এবং অবমুক্ত কর্মসূচি পর্যালোচনায়। এটি টাকার গল্প—এবং সেই টাকা কোথায় গিয়েছিল—এবং একটি দেশের নির্বাচিত সরকারের কী ঘটেছিল তার অল্প কিছুদিন পরেই।
সংখ্যাগুলো প্রকাশ্য। সংস্থাগুলোর নাম জানা। অর্থপ্রাপ্তদের তালিকাও নথিভুক্ত।
যা এতদিন অনুপস্থিত ছিল, তা হলো—এই সব তথ্য একত্রে পড়তে ইচ্ছুক কেউ।
হস্তক্ষেপের ব্যাপ্তি—
মার্কিন সরকার তাদের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রায় ৫৭২ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দ করে—যা দেশটির ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একক বছরে সর্বোচ্চ।
এই তথ্য ForeignAssistance.gov-এর ৩১ মার্চ ২০২৬ হালনাগাদ ডেটা অনুযায়ী।
এই অর্থ সব খাতে ব্যয় হয়েছে।
কিন্তু এর মধ্যে কিছু কর্মসূচি—যা USAID, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে ট্র্যাক করা যায়—সেগুলোকে সাধারণ উন্নয়ন সহায়তা বলা কঠিন।
জিহান জেনিফার হাসান নামের এক গবেষকের সংকলিত নথি অনুযায়ী—
গত এক দশকে অন্তত ৩২৫,৫৮৯,৬২২ ডলার অনুদান এবং ২,৭৭৯,৯০৩ ডলার চুক্তি বাংলাদেশে “শাসনব্যবস্থায় হস্তক্ষেপমূলক কার্যক্রমে” ব্যবহৃত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যও DFID-এর মাধ্যমে অতিরিক্ত £১৬.৯ মিলিয়ন দিয়েছে SPP2 প্রোগ্রামের মাধ্যমে (২০১৭–২০২১)।
নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে—
“এগুলো শুধুমাত্র ট্রেস করা সম্ভব এমন অর্থের হিসাব। এর বাইরে আরও অনেক অর্থ রয়েছে যা আমাদের পক্ষে অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি।”
অতিরিক্ত অদৃশ্য উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:
মধ্যপ্রাচ্যের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে মাদ্রাসায় প্রবাহ, ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন, জাতিসংঘ-সম্পর্কিত সংস্থা, ইউরোপীয় ও কানাডিয়ান দূতাবাস, এবং ইউনুস স্পোর্টস হাব।
এটি কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয়। এগুলো নথিভুক্ত আর্থিক লেনদেন।
কর্মসূচিগুলো আসলে কী অর্থায়ন করেছে
অনুদানের রেকর্ডগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে একটি নির্দিষ্ট গল্প সামনে আসে।
সবচেয়ে বড় অনুদান পেয়েছে Democracy International—
$29.9 মিলিয়ন “Strengthening Political Landscape” প্রোগ্রামের জন্য (২০১৭–২০২৫)।
এটি ছোটখাটো প্রকল্প নয়—এটি ছিল একটি বিশাল সাব-গ্রান্ট নেটওয়ার্কের কেন্দ্র।
এর অধীনে অর্থ পেয়েছে:
The Global Hunger Project, M/S Beatnik, সমকাল পত্রিকা একই USAID চ্যানেলের মাধ্যমে।
CEPPS (IRI, NDI, IFES-এর যৌথ প্ল্যাটফর্ম) পেয়েছে $২১ মিলিয়ন “আমার ভোট আমার” কর্মসূচির জন্য (২০২২–২০২৫)।
এই কর্মসূচির অধীনে:
IRI পেয়েছে $১৮ মিলিয়নের বেশি, IFES পেয়েছে $১৬ মিলিয়নের বেশি, NDI পেয়েছে $৪.৮ মিলিয়ন।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের একটি মার্কিন দূতাবাস অনুদানে বলা হয়—
যুবকদের কণ্ঠ জোরদার করে “অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার এজেন্ডা প্রভাবিত করা।”
অর্থাৎ—যে কাঠামো বহু বছর ধরে যুবসমাজকে তৈরি করেছে, সেটিই এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রভাবিত করছে।
Winrock International পেয়েছে $৩৮.৫ মিলিয়ন
Chemonics পেয়েছে $৫৫.২ মিলিয়ন
এসব প্রকল্প উন্নয়নমূলক হলেও—
এগুলোর অবস্থান ও সময়কাল রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল।
BRAC-USAID যৌথ প্রকল্প (BAMA) $১৪.৭ মিলিয়ন
লক্ষ্য: গণতন্ত্র, অর্থনীতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন
BRAC এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
সামরিক দিক—
সবচেয়ে কম আলোচিত দিক—মার্কিন নৌবাহিনীর ভূমিকা।
NAVSUP-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রকল্প—
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সমতা, ছাত্র নেতৃত্ব, সহিংসতা প্রতিরোধ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিটিক্স
মোট প্রায় $২.৭ মিলিয়ন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—
M/S Beatnik-এর “Social Media Analytics” প্রকল্প
এটি খাদ্য সহায়তা নয়—
এটি গোয়েন্দা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম।
NED সাক্ষ্য—
২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি; Damon Wilson বলেন:
বাংলাদেশ “স্বৈরশাসন থেকে বের হয়ে আসছে”
তিনি NED-এর কার্যক্রমকে নির্বাচন সংস্কার ও ভোটার শিক্ষা হিসেবে তুলে ধরেন।
শেষে বলেন, “এটি গণতন্ত্র পুনর্গঠনের সুযোগ।”
মাইক বেনজের বক্তব্য—
মাইক বেনজ বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে বাংলাদেশে সামরিক ঘাঁটি দরকার হয়, এবং প্রধানমন্ত্রী রাজি না হন—তাহলে “শাসন পরিবর্তন” বিবেচনা করা হয়।”
তারপর শুরু হয়—
বিরোধী শক্তি সমর্থন, রঙ বিপ্লব, সরকার পতন।
তিনি আরও বলেন—
মার্কিন অর্থ দিয়ে বাংলাদেশি র্যা*প গান তৈরি করা হয়েছে প্রতিবাদ উসকে দিতে। নথিতে দেখা যায় হিপ-হপ প্রশিক্ষণ, যুব কর্মসূচি, মিডিয়া ক্যাম্প সব মিলিয়ে একটি “মোবিলাইজেশন নেটওয়ার্ক”
চীন প্রসঙ্গ—
বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চীনের প্রভাব সীমিত করা—একটি বড় লক্ষ্য। হাসিনা বহুমুখী নীতি অনুসরণ করতেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাধা ছিল।
SPP2: যুক্তরাজ্যের ভূমিকা—
DFID-এর SPP2 প্রোগ্রাম: £১৬.২ মিলিয়ন! এটি কাজ করেছে: রাজনৈতিক দল, মিডিয়া, যুবসমাজ, বিচারব্যবস্থা
একটি অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে বলা হয়, “আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দেয়াল ভেঙেছে”
অর্থায়নের ধারা গ্রাফ অনুযায়ী:
২০১৮ থেকে বৃদ্ধি, ২০২৪-এ সর্বোচ্চ, এরপর হ্রাস
এটি কাকতালীয় নয়—এটি একটি পরিকল্পিত চক্র।
যা এটি নয়
সব অর্থ খারাপ ছিল না:
রোহিঙ্গা সহায়তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা
কিন্তু:
নৌবাহিনীর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোগ্রাম, নির্বাচনী প্রকল্প, সামাজিক আন্দোলন চুক্তি
এসব মানবিক নয়।
শেষ প্রশ্ন
শেখ হাসিনা ১৫ বছর শাসন করেছেন।
উন্নয়ন করেছেন, কিন্তু স্বৈরাচারী হয়েছিলেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো:
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কে?
এই নথি দেখায়:
দেশ নিজে সিদ্ধান্ত নেয়নি—
বরং বাইরের শক্তি তা প্রভাবিত করেছে।
এটি গণতন্ত্র নয়। এটি কাগজপত্রসহ শাসন পরিবর্তন।
সব প্রমাণ প্রকাশ্য। টাকা অনুসরণযোগ্য।
প্রশ্ন হলো—কেউ কি জবাবদিহি চাইবে?
