গত ১৮ এপ্রিল বিএনপি সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয় তেলের দাম বৃদ্ধি করে রেকর্ড উচ্চতায় তুলেছে। ডিজেলের দাম ১০০ থেকে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এ দাম গত রবিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। সর্বক্ষেত্রেই গড়ে দাম বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনও (বিইআরসি) এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
মূল্যস্ফীতি হলো, পণ্যের দাম বেড়ে গেলে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া৷ মার্চ মাসেও মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ৯ শতাংশ, তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিবে বলছেন বিশ্লেষকগণ। ফলে, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা আরও সংকুচিত হবে। ইউনূস সরকারের অপশাসন ও বারং বার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে অনেক পরিবারের ক্ষেত্রেই এখন আর ক্রয় সংকোচন করে নতুন করে ছাড় দেওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।
দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির প্রভাব পারিবারিক বা সাংসারিক পর্যায়ে অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষ সাধারণত প্রথমে বিনোদন বা পোশাকের মতো খ্যাদ্যবহির্ভূত বিলাসী খরচগুলো হ্রাস করে; এতেও যদি আয়ের সাথে সংকুলান না হয়, তবে তারা খাদ্যসামগ্রী ক্রয় বা ভোজন কমিয়ে দেয়; সর্বশেষ, পুষ্টিকর খাবার বাদ দিয়ে স্বল্পমূল্যে ও নিম্নমানের খাবার বেছে নিতে বাধ্য হয় মানুষ। আমাদের দেশে প্রক্রিয়াটি ফ্যাসিস্ট ইউনূসের আমল থেকেই চলমান এবং বর্তমানে যুদ্ধকে পূঁজি করে বিএনপি সরকার কতৃক জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরও প্রকোট করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন, দেশীয় শিল্প, আমদানি, রপ্তানি সকল ক্ষেত্রেই খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যেই, অনেক জায়গায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব দৃশ্যমান। পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে; বাড়ছে চাল-সবজি, ফল-ফলাদি ও আমিষ সহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামও। বাজার খরচ বেড়ে যাওয়ায় হোটেলে খাবারের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনায় আছে হোটেল-রেস্তোরার মালিকেরা। এলপিজির দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও অসহনীয় করে তুলবে।
যে সংসারে কয়েক সপ্তাহ আগেও ৪০০ টাকা দিয়ে ছয় সদস্যের দৈনন্দিন বাজার হতো, এখন বাজার থেকে রান্নার তেল ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও সংসারের বাজার খরচ মেটাতে ধার করতে হতো না; এখন স্থানীয় দোকান থেকে বাকিতে কেনাকাটা করতে হচ্ছে, না হলে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম কিনতে হচ্ছে।
ফ্যাসিস্ট ইউনূসের অপশাসনের সময়ে শুরু হওয়া মূল্যস্ফীতির ফলে মানুষ এখন আগের চেয়ে সস্তা খাবার খায়। যখন একটি পরিবারকে বাধ্য হয়ে টানা কম এবং নিম্নমানের খাবার খেতে হয়, তখন বাচ্চাদের মেধা ও স্বাস্থ্যগত উন্নতি আশানুরূপ হয় না। টিকার সংকট তৈরি করে অবৈধ ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং ইতোমধ্যেই শতাধিক শিশুকে হত্যা করে গেছে; বিএনপি সরকারও কি একই ভাবে নিজেদের সৃষ্ট তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে শিশুদের মেধা ও স্বাস্থ্যহানী করার গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত?
বিশ্ববাজারে দাম জ্বালানির দাম কমলেও সর্বোচ্চ মজুত আছে বলে বিএনপি সরকার দাম ঠিকই বাড়িয়েছে, কেন? বাংলাদেশের মানুষকে ভোগান্তিতে রাখাই কি বিএনপি সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার একমাত্র অস্ত্র? শিশুদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে, মূল্যস্ফীতির চাপে জাতিকে নাজেহাল করে, আরও দারিদ্র্যতার দিকে মানুষদের ঠেলে দিয়ে যে ক্ষমতার স্বাদ বিএনপি সরকার নিতে চাইছে— সে স্বাদ কতটুকু মধুর।
