বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) অভ্যন্তরে পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর অনুপ্রবেশ এবং সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সারাদেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স অভিযান।
নর্থইস্ট নিউজ ও বিভিন্ন গোপন সূত্রের তথ্যমতে, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ভোর থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোরের বিমানঘাঁটিগুলোতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে টিটিপির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে (অফিসার) আটক করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তত ১০ জন এয়ারম্যানকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কক্সবাজার ইউনিট, চট্টগ্রামের ২৫তম স্কোয়াড্রন এবং যশোরের ১৮তম স্কোয়াড্রনের বেশ কিছু সদস্য এই উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।
অভিযানের আঁচ পেয়ে ইতোমধ্যে বিমান বাহিনীর অন্তত ৯ থেকে ১০ জন কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪ জন এয়ারম্যান পাকিস্তান, পর্তুগাল, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিএএফ সদর দপ্তর থেকে সিভিলিয়ান কর্মকর্তাদের ছুটি স্থগিত করা হয়েছে এবং জুনিয়র এয়ারম্যানদের মোবাইল ফোন জব্দ করে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের এক চিঠিতে সারাদেশে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী নেতা ইশতিয়াক আহম্মেদ সামীর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও অস্ত্রাগার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও বিনোদনকেন্দ্র,শাহবাগসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় হামলা করতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, উগ্রবাদী সংগঠনের এই তৎপরতা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ‘সোর্স’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগটি জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। উল্লেখ্য, এই অভিযান চলাকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান মালয়েশিয়া সফরে ছিলেন।
রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারদের পাঠানো নির্দেশনায় সন্দেহভাজনদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং কেপিআই ভুক্ত স্থাপনাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিমান বাহিনী বা সরকার থেকে এখনও এই অভিযান বা পলায়ন নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
