সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বোরো ধান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত এক সপ্তাহে প্রায় ১৩ হাজার ৭৯ হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২০০ কোটি টাকা।
ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র:
এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে টানা বৃষ্টি ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওরের নিচু এলাকাগুলোতে পানি উঠে যায়। পাকা ও আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। দেখার হাওর, কানলার হাওর, জোয়ালভাঙা, শান্তিগঞ্জের জামখলা-খাই-পাখিমারা, দিরাইয়ের বরাম-চাপতির, তাহিরপুরের শনির হাওর, জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরসহ জেলার প্রায় সব বড় হাওরেই ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি বিভাগের হিসাবে কিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক জমির ধান কাটা সম্ভব হয়নি। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধান গলে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কৃষক কাঁচা ধান কেটে নৌকায় তুললেও বৃষ্টিতে সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষকদের দুর্ভোগ:
হাওরের কৃষকরা জানান, এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সব শেষ। অনেকে বলছেন, “এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারিনি।” শ্রমিক সংকট, যন্ত্রের অভাব ও টানা বৃষ্টির কারণে ধান কাটা ব্যাহত হয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ করে চাষ করেছিলেন; এখন ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হবে।
সরকারি উদ্যোগ:
ক্ষতিগ্রস্ত হাওর জেলাগুলোতে বোরো ধান সংগ্রহের সময়সূচি ১২ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে। সুনামগঞ্জসহ ছয়টি জেলায় দ্রুত ধান সংগ্রহ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যাতে কৃষকরা কিছুটা হলেও লোকসান পূরণ করতে পারেন।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এখনো জেলায় প্রায় অর্ধেক ধান জমিতে রয়েছে। যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
সুনামগঞ্জের হাওরে এই আকস্মিক বন্যা কৃষকদের জন্য বড় ধাক্কা। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও কৃষকদের সহায়তার জন্য কাজ করছে। তবে কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহায়তা না পেলে অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে।
এ ধরনের আকস্মিক বন্যা হাওর অঞ্চলের কৃষির জন্য বারবার হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে হাওরে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
