কখনো প্লেনে বাংলাদেশে আসলে মনে হবে দেশটা আসলে মিলিটারির। বিমান বন্দর পাহারা দেয় বিমান বাহিনী (বায়ু সেনা)। বিমান বন্দর থেকে বের হতেই দেখবেন রাস্তার দুপাশে সামরিক স্থাপনা। নৌবাহিনীর সদর দপ্তর, বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর, সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর, সেনাদের জন্য গলফ কোর্স, আর্মি স্টেডিয়াম, সেনানিবাস, সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত বিমানের হ্যাঙ্গার ইত্যাদি, ইত্যাদি।
একটা শহরের ভেতরে ২ টি সেনানিবাস। শহর থেকে বের হওয়ার পথে অন্তত ৩ টি সেনানিবাসের দেখা পাবেন। এর মধ্যে রাজধানীর ঠিক বুকের উপর বিশাল জায়গা জুড়ে আধা সামরিক বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদর দপ্তর। সেটাও সেনা নিয়ন্ত্রিত। ছোট্ট একটা দেশে ৩২ টি সেনানিবাস। ১২ ডিভিশন সৈন্য।
কিন্তু ৫৪ বছরের এই নবীন রাষ্ট্রটি বিনির্মাণে এদের অবদান কী?
এই সেনাবাহিনীর হাতে দুই জন রাষ্ট্রপ্রধান নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন জাতির পিতা, আর আরেকজন সে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সেনাপতি। এছাড়া অন্তত ২০ বার ক্যু করেছে সেনাবাহিনী। অন্তত ৪ বার সরকার পরিবর্তনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে এই সেনবাহিনী। ১৫ বছর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ সেনা শাসন চলেছে। ১৯৭৫–১৯৭৯ সময়কালে ক্যু এবং পাল্টা ক্যু সামাল দিতে শর্ট ট্রায়ালে হাজার হাজার সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বেশ কয়জন বীর সেনানী।
কিন্তু, এতো অঘটনের পরও দেখবেন কথায় কথায় এই সেনাবাহিনীকে ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়। মিডিয়া সারাক্ষণ এই সেনাবাহিনী নিয়ে আহ্লাদে আটখানা থাকে। কারণ, বাংলাদেশের মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। এমনকি বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-ও নিয়ন্ত্রণ করে সশস্ত্র বাহিনীর লোকজন।
বেসামরিক প্রশাসনে সামরিকায়ন হয়েছে ব্যাপকভাবে। বাংলাদেশের সবগুলো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সেনাবাহিনী থেকে আসা, জেলের (কারাগার) প্রধান সেনা বাহিনীর লোক, ফায়ার ব্রিগেডেরও, পুলিশের সহায়ক বাহিনী আনসারেরও, সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সব অফিসার সেনাবাহিনী থেকে আসা, কোস্ট গার্ডের নৌবাহিনী থেকে, বিমান বন্দরগুলো চালায় বিমান বাহিনী, নৌবন্দর চালায় নৌবাহিনী, অসংখ্য স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান সেনাকর্মকর্তা… আর কত লেখা যায়?
দেশের যতগুলো প্রাইম লোকেশন আছে, সেখানেই সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক এলাকা। একে বলা হয় ডিওএইচএস। প্রত্যেক সামরিক কর্মকর্তা একটা নির্দিষ্ট সময় পর গাড়ি কেনার জন্য মোট অংকের বিনাসুদে ঋণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মাসিক বরাদ্দ পান। পান সুলভে ডিওএইচএসের প্লট। এছাড়া অন্যান্য সুবিধা তো আছেই।
বাংলাদেশের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটে যান, সেখানেই পাবেন আর্মির হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মালিকানায় ২টি পাঁচ তারকা হোটেল রয়েছে। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডের পাশের একটা অংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে তারা কিনে ফেলেছে। এটা আয়তনে লক্ষ একরের কম হওয়ার কথা নয়। কেবল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচালনায় ৬৩ টি পাবলিক স্কুল, ৬ টি মেডিকেল কলেজ, ৫ টি নার্সিং কলেজ, ৩ টি ইনস্টিটিউট, ৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১২ টি ক্যাডেট কলেজ চলছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানা সেনাবাহিনীর। রয়েছে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এসবের কোনোটিই দাতব্য প্রতিষ্ঠান হয়। প্রতিটিতেই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মতো করে বেতন নেয়া হয়। এসব থেকে বাৎসরিক আয় হাজার হাজার কোটি টাকা। (অনুমানে লিখতে হলো, কারণ সেনাবাহিনী কখনোই এ তথ্য প্রকাশ করে না।)
এসব নিয়ে টু শব্দ করার সাহস পায় না বাংলাদেশের মিডিয়া। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়েচভ্যালে ‘ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মিলিটারি’ শিরোনামে এক সংবাদ প্রকাশ করে।
সেখানে উল্লেখ করা হয় সেনাবাহিনী তার সাধারণ ব্যবসাগুলো পরিচালনা করে মূলত ‘সেনা কল্যাণ সংস্থা’ বা এসকেএস এবং ‘আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট’ বা এডাব্লিউটি-এর মাধ্যমে। এসকেএস-এর অধীনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে: ‘মংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরী’, ‘ডায়মন্ড ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ’, ‘ফৌজি ফ্লাওয়ার মিলস’, ‘চিটাগাং ফ্লাওয়ার মিলস’, ‘সেনা কল্যাণ ইলেক্ট্রিক ইন্ডাষ্ট্রিজ’, ‘এনসেল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড’, ‘স্যাভয় আইসক্রিম’, ‘চকোলেট এন্ড ক্যান্ডি ফ্যাক্টরী’, ‘ইস্টার্ন হোসিয়ারী মিলস’, ‘এস কে ফেব্রিক্স’, ‘স্যাভয় ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরী’, ‘সেনা গার্মেন্টস’, ‘ফ্যাক্টো ইয়ামাগেন ইলেক্ট্রনিক্স’, ‘সৈনিক ল্যাম্পস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার’, ‘আমিন মহিউদ্দিন ফাউন্ডেশন’, ‘এস কে এস কমার্শিয়াল স্পেস’, ‘সেনা কল্যাণ কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স’, ‘অনন্যা শপিং কমপ্লেক্স’, ‘সেনা ট্রাভেল লিমিটেড’, ‘এস কে এস ট্রেডিং হাউস’, ‘এস কে এস ভবন খুলনা’, ‘নিউ হোটেল টাইগার গার্ডেন’, ‘রিয়েল এস্টেট ডিভিশন চট্টগ্রাম’ এবং ‘এস কে টেক্সটাইল’৷
অন্যদিকে ‘আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট’ বা এডাব্লিউটি-র প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: ‘ট্রাষ্ট ব্যাংক লি’., ‘ব়্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেল’, ‘আর্মি শপিং কমপ্লেক্স’, ‘সেনা প্যাকেজিং লিমিটেড’, ‘সেনা হোটেল ডেভলেপমেন্ট লিমিটেড’, ‘ট্রাষ্ট ফিলিং এন্ড সিএনজি ষ্টেশন’, ‘সেনা ফিলিং ষ্টেশন – চট্টগ্রাম’, ‘ভাটিয়ারী গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাব’, ‘কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব’, ‘সাভার গলফ ক্লাব’, ‘ওয়াটার গার্ডেন হোটেল লিমিটেড চট্টগ্রাম’, ‘ট্রাষ্ট অডিটোরিয়াম এবং ক্যাপ্টেনস ওর্য়াল্ড’, ‘আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট বাস সার্ভিস’ আর ‘ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস’।
সে প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর গভর্নমেন্ট ডিফেন্স অ্যান্টিকরাপশন ইনডেক্স-২০১৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ‘ব্যান্ড ডি’৷ এই ‘ব্যান্ড ডি’ বলতে তারা বোঝায় ডিফেন্স সেক্টরে উচ্চমাত্রার দুর্নীতি ঝুঁকির কথা৷ আর সে জন্যই তারা বাংলাদেশের ‘ডিফেন্স’ বা প্রতিরক্ষা বাজেটকে পুরোপুরি সংসদীয় ব্যবস্থার অধীন করার সুপারিশ করেছেন৷
এর বাইরে সেনাবাহিনী রীতিমতো সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করে। সরকারের বড়ো অনেক প্রকল্প বিনা টেন্ডারে সেনাবাহিনীকে দিয়ে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে যেহেতু সিভিল অডিট হয় না এবং মিডিয়াগুলোও এ নিয়ে কিছু বলতে পারে না, তাই সরকার স্পর্শকাতর প্রকল্পগুলো সেনাবাহিনীকে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকে।
পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প, হাতিরঝিল প্রকল্প, টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের মতো বিরাট বিরাট প্রকল্পে সেনাবাহিনী কাজ করার সুযোগ পেয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
২০০৯ সালের মর্মন্তুদ বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে ছিল সেনাবাহিনী অত্যুগ্র ব্যবসার বাসনা। আগেই লিখেছি বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (তখন নাম ছিল বিডিআর) সকল কমিশনড অফিসার আসে সেনাবাহিনী থেকে। ২০০৭ সালে তারা বিডিআরের সৈনিকদের দিয়ে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী খোলাবাজারে বিক্রির উদ্যোগ নেন। একে ‘অপারেশন ডাল ভাত’ বলা হয়। এতে বিডিআরের সৈনিকরা অমানুষিক পরিশ্রম করলেও মুনফার সঠিক হিস্যা তাদের দেওয়া হয় না। এই নিয়েই অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। যা পরে বিদ্রোহে রূপ নেয়।
বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ ব্যবসার বাইরে রয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যবসা। সেটা হলো ঔপোনিবেশিক শক্তিগুলোর চৌকিদারি করে ডলার কামানো। যাকে জাতিপুঞ্জের শান্তিরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব বলা হয়।
ঢাকা ট্রিবিউনের ২০২৩-এর ২ নভেম্বরের এক সংবাদে জানা যায়, গত ২৩ বছরে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী জাতিসংঘের শান্তি মিশন থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে। এই নগদ ডলারের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনী সর্বদা তৎপর থাকে। ২০২৪-এর সরকার পতনের পেছনে এই শান্তিমিশনের আয় মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল বলে ঠারে ঠুরে অনেকেই স্বীকার করেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বিবিসিকে বলেছেন, ৫ আগস্ট (যেদিন শেখ হাসিনার পতন হয়) যদি সেনাবাহিনী শেখ হাসিনার পক্ষে থাকত তাহলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী মিশন বন্ধ হতো।
শেখ হাসিনার আবাসস্থল গণভবনের পতন হয়েছিল এই সেনাবাহিনীর হাত দিয়ে। ঢাকার সকল প্রবেশদ্বারের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল পুলিশ। উত্তরা (যেটা কিনা সেনা সদর দপ্তরের সন্নিকটে) থেকে সেনাবাহিনীর অনুরোধে পুলিশ সরে যায়। আর এই উত্তরা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ঢুকে পড়ে গণভবন আক্রমণ করে। পরে দেখা যায় জাতির জনকের প্রতিকৃতি ভাঙতে সবচেয়ে বেশি তৎপর সেনাবাহিনীর লোকজন।
মীরজাফরের প্রতাত্মা যেন বারবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ভর করে। তবে এর জন্য সেনাবাহিনীর মনোস্তত্ত্ব ও প্রশিক্ষণ অনেকটাই দায়ী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যে কাঠামো ও সংগঠন ছিল তা দিয়েই যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুরুতেই ছিল নেতৃত্বের দুর্বলতা। ১৯৭২ সালের ৫ এপ্রিল মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম নিয়মিত সেনা প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার বয়স ছিল তখন মাত্র ৩৮ বছর। অথচ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে সিনিয়র অফিসার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত। তিনি শফিউল্লাহ থেকে অন্তত ৭ বছরের সিনিয়র ছিলেন। কেবল হিন্দু বলে তাঁকে সেনা প্রধান করা হয়নি। ঠিক এরকম আরেকটি প্রতারণা করা হয় পরের বছরই। ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের ৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় উপাধি বীরশ্রেষ্ঠ দেওয়া হয়েছিল।
সিলেটের হাওড় অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি দাস ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে লড়াইয়ে শহীদ হলে মুজিবনগর সরকার থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা দেওয়া হবে। কিন্তু, সেই ৭ জনের মধ্যে জগৎজ্যোতি স্থান পাননি। কেবল হিন্দু জগৎজ্যোতিকে বাদ দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কোনো সিভিলিয়ানকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দেওয়া হবে না। অথচ জগৎজ্যোতির বীরত্বের কাছে অনেক বীরশ্রেষ্ঠই ম্লান মনে হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে সেই পাকিস্তানী ধাঁচেই সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু পাকিস্তান ছিল একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র, তাই ধর্মকে কেন্দ্র করে আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। সেটাই কনটিনিউ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রেখে দেওয়া হয় পাকিস্তানি মন মানসিকতার কর্মকর্তাদের। এর ফলাফল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ড। এর পর শুরু হয় ইসলামিক রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। এ পথের কাঁটা ইন্ডিয়া না থাকলে সেটা হয়েও যেত। কিন্তু, কাজে কর্মে ইসলামিক আবহ রাখা হয়েছে পুরোপুরি। ১৯৭৫-এর পর অন্তত ২১ বছর সেনাবাহিনীতে পদাতিক কোরে কোনো হিন্দুকে কমিশনড অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
ঠাট্টা করে বলা হয়, প্রত্যেকটি দেশের একটি সেনাবাহিনী থাকে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি দেশ আছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রও উপহাসটি প্রযোজ্য। তারা দেশকে কীভাবে নিংড়ে খাবে সেই তক্কে থাকে। সেনাবাহিনীকে একটা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক বলা হয়। একটা সময় বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা মিজো ও উলফা গেরিলাদের অভয়ারণ্য ছিল। এখনও বান্দরবান ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরএসও ও আরাকান আর্মির সশস্ত্র সদস্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। ফেসবুকে তাদের ভিডিও ভাইরাল হয়। আর্মি টু শব্দটি করে না। কিছুদিন পর পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশে ঢুকে পড়ছে। সেনাবাহিনী কোথায় যে থাকে কে জানে?
বাংলাদেশের মতো একটা প্রায় স্যাটেলাইট কান্ট্রি (যার চারদিক ঘিরে আরেকটি দেশ), এই বিশাল সৈন্য সামন্ত কার জন্য পুষছে? যুদ্ধ করলে তো একমাত্র ভারতের সঙ্গে করতে হবে। ভারত এখন পৃথিবীর ৪র্থ বৃহৎ সামরিক শক্তি। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ৩৫।
এ প্রসঙ্গে একটি গল্প বলা যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খন্দকার মোশতাক ক্ষমতা নেন। উনি সর্বদা ভারতীয় বাহিনীর আক্রমণের ভয়ে থাকতেন। একদিন নাকি তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে এক সভায় বসেছিলেন। সেই সভায় মোশতাক জানতে চেয়েছিলেন, ভারত বাংলাদেশ আক্রমণ করলে ঠিক কতক্ষণ ঢাকা টিকিয়ে রাখা যাবে?
সেনা প্রধান নাকি বলেছিলেন ৭/৮ ঘন্টা।
মোশতাক তখন বলেছিলেন, এই সময় তো তাদের ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছাতেই লেগে যাবে।
সেনা প্রধান বলেছিলেন, আসতেই যে সময়টা লাগে সেই সময়টাই পাবেন স্যার।
সার্বভৌম টার্মভৌমত্ব কিছু নয়, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পোষা হয় মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে। আর নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে থাকে না। তারা বহুদূরে বসে পাইক বরকন্দাজদের দিয়ে অশিক্ষিত ও ধর্মান্ধ এই জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর পাইক বরকন্দাজরা খুশি থাকে দেশে বিদেশে লুটপাট করে। এখন সরাসরি দেশ শাসনের চেয়ে দেশ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক লাভজনক ব্যবসা।
#ATeam 20260431
