বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে অভাবনীয় সাফল্য। ১৩৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ১২২টিই শেখ হাসিনা সরকারের অবদান। ২৮,০০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা নিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের যাত্রা।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন দেশ থেকে আলোকিত বাংলাদেশে রূপান্তরের এক মহাকাব্য। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে সচল থাকা ১৩৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ১২২টিই নির্মিত হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। এই অর্জন কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক নয়, বরং এটি একটি জাতির সক্ষমতার স্মারক।
পরিসংখ্যানের আলোয় বিদ্যুৎ খাতের দেড় দশক
২০০৯ সালের শুরুতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের যে জরাজীর্ণ অবস্থা ছিল, আজ তা ইতিহাসের পাতায়। তখন মাত্র ৪,৯৪২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল রাষ্ট্র। কিন্তু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে গত ১৫ বছরে গৃহীত হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ।
এক নজরে রূপান্তরের চিত্র:
২০০৯ সালে উৎপাদন সক্ষমতা: ৪,৯৪২ মেগাওয়াট।
২০২৪-২৬ সালে বর্তমান সক্ষমতা: ২৮,০০০ মেগাওয়াটের অধিক (ক্যাপটিভসহ)।
নতুন কেন্দ্র স্থাপন: ১২২টি (শেখ হাসিনা সরকারের আমলে)।
বিদ্যুতায়ন: শতভাগ এলাকা বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায়।
শূন্য থেকে শিখরে: একটি অভাবনীয় যাত্রা
২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশই নির্মিত হয়েছে বিগত সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।
যেখানে ২০০৯ সালে লোডশেডিং ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার, সেখানে বর্তমানে গ্রিড-ভিত্তিক ১৩৬টি কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই কেন্দ্রগুলোর বৈচিত্র্য লক্ষ্য করার মতো।
সরকার কেবল প্রথাগত জ্বালানির ওপর নির্ভর করেনি, বরং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিশ্র জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে:
১. কয়লা ভিত্তিক বৃহৎ প্রকল্প: পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও রামপালের মতো মেগা প্রকল্প।
২. তরল জ্বালানি ও গ্যাস: দ্রুত চাহিদা মেটাতে আইপিপি (IPP) ও রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সফল ব্যবহার।
৩. নবায়নযোগ্য শক্তি: সৌর বিদ্যুৎ ও বায়ু বিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব জ্বালানির সম্প্রসারণ।
৪. আঞ্চলিক সহযোগিতা: ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিদ্যুতের ভূমিকা
বিদ্যুৎ কেবল আলোর উৎস নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করার প্রধান হাতিয়ার। ১০০% বিদ্যুতায়নের ফলে বাংলাদেশের গ্রামগুলো আজ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শিল্পায়ন: বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (EZ) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে বিদেশি বিনিয়োগের দুয়ার খুলে গেছে।
কৃষি বিপ্লব: সেচ ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক পাম্পের ব্যবহার কৃষি উৎপাদনকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ: ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সিং—সবকিছুর মূলেই ছিল বিদ্যুৎ।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিদ্যুতের ভূমিকা
বিদ্যুৎ কেবল আলোর উৎস নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করার প্রধান হাতিয়ার। ১০০% বিদ্যুতায়নের ফলে বাংলাদেশের গ্রামগুলো আজ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শিল্পায়ন: বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (EZ) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে বিদেশি বিনিয়োগের দুয়ার খুলে গেছে।
কৃষি বিপ্লব: সেচ ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক পাম্পের ব্যবহার কৃষি উৎপাদনকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ: ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সিং—সবকিছুর মূলেই ছিল বিদ্যুৎ।
মাইলফলক প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে হাতে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তির ক্লাবে প্রবেশ করবে, যা সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপ্লব ঘটাবে। এ ছাড়া আদানির সাথে বিদ্যুৎ চুক্তি এবং আন্তঃদেশীয় গ্রিড সংযোগ বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
স্মার্ট বাংলাদেশের ভিত্তি: একটি বিশ্লেষণ
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ২০৪১-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে বিদ্যুৎ অবকাঠামো। একটি আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ডাটা সেন্টার, হাই-টেক পার্ক এবং স্বয়ংক্রিয় শিল্প কারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অপরিহার্য। ১৩৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২২টি নির্মাণ করা কোনো সাধারণ সাফল্য নয়; এটি ছিল এক বিশাল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, যা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশের গত ১৫ বছরের ইতিহাস উন্নয়নের ইতিহাস। বিদ্যুৎ খাতের এই আমূল পরিবর্তন দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অবকাঠামোগত এই মজবুত ভিত্তিই আগামী দিনের সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশের প্রধান নিশ্চয়তা।
