জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘Agreement on Reciprocal Trade’-এর বাধ্যবাধকতা পূরণে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েচজে।
চুক্তির আওতায় বিমান কিনবে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ও ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। এই ১৪টি বিমানের তালিকামূল্য প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ কোটি টাকা।
চুক্তিতে ১০% নগদ পেমেন্ট করা হবে বলে জানা গেছে, বাকি অংশ দীর্ঘমেয়াদি ঋণ/কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। এই ডাউনপেমেন্টের অর্থ অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে ঋণ হিসাবে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ বিমানের।
গত ফেব্রুয়ারিতে (২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের হয়ে ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে, সাথে প্রাণিজ, কৃষিজ ও সামরিক সরঞ্জামাদি ক্রয়ের ব্যাপারেও সন্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমিয়ে ১৯%-এ নামিয়ে আনে এবং মার্কিন তুলা ও ম্যান-মেড ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট পরিমাণের তৈরি পোশাক খাতের পণ্যের জন্য শূন্য শুল্ক (zero tariff) সুবিধা দেয়।
তৈরি পোশাকের রপ্তানি অর্ডারের সাম্প্রতিক চিত্র
বাণিজ্য চুক্তির পর গত তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেডিমেড গার্মেন্টসের নতুন অর্ডার আগের থেকে কমেছে বলে জানিয়েছেন গার্মেন্টস মালিক ও রপ্তানিকারকরা। সামগ্রিকভাবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের গার্মেন্টস রপ্তানি ১.৩৭ বিলিয়ন ডলার, ছিল, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৫৩% কম।
তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ চীনকে টপকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস সরবরাহকারী দেশে উঠে এসেছে, ভিয়েতনাম প্রথম।
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ যখন চীনের পর দ্বিতীয় স্থানে ছিল এবং ভিয়েতনামের চেয়ে এগিয়ে ছিল, তখন দ্বি মাসিক রপ্তানির পরিমাণ বিভিন্ন সময়ে ১.৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ২০২২ সালে কিছু মাসে বাংলাদেশের মাসিক রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক মাসে ৭৯৯.৬৫ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) ২.২২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছিল, যা তখনকার হিসাবে শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করেছিল।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শূন্য শুল্ক সুবিধা ও ট্যারিফ হ্রাসের কারণে মার্চ-এপ্রিলে নতুন অর্ডার বাড়তে পারে, বিশেষ করে যেসব পণ্যে আমেরিকান তুলা ব্যবহার করা হয়।
এই চুক্তিকে অনেকে ‘ট্রেড-অফ’ হিসেবে দেখছেন। একদিকে বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ ও ডলার ব্যয়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে RMG রপ্তানির শুল্ক সুবিধা ও নতুন অর্ডারের সম্ভাবনা। গার্মেন্টস খাতের নেতারা আশা করছেন, আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, যা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি পরিশোধের চাপ যেন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বাজেটের উপর অতিরিক্ত বোঝা না হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মার্কিন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
