প্রিয় দেশবাসী, মহান মে দিবসের রক্তিম অভিবাদন ও শুভেচ্ছা। শ্রদ্ধা জানাই ১৮৮৬ সালের পহেলা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ন্যায্য দাবি আদায়ে আত্মাহুতি দেয়া বীর শ্রমিকদের প্রতি। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের এই দিনে বাংলাদেশের অগণিত শ্রমিক এবং কৃষকদের অভিনন্দন জানাই।
প্রিয় শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি ভাই-বোনেরা, আপনারা জানেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন শোষিত, বঞ্চিত ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছেন। জাতির পিতার পথ অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার শ্রমজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়ন ও কল্যাণে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮, শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকল্পে জাতীয় শ্রমনীতি-২০১২, জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০, জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নীতিমালা-২০১৩, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫ এবং গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫ প্রণয়ন করে, যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রমাণ করছে।
প্রিয় দেশবাসী, আজ দুঃখের সাথে বলতে হয় দেড় দশকে শিল্প ও কৃষিতে আমরা যে প্রাণ সঞ্চার করেছিলাম, ২০২৪ এর ৫ই আগস্টের পর তা ধ্বংসপ্রাপ্ত। অবৈধ দখলদার ইউনুস সরকারের প্রতিহিংসায় গার্মেন্টসসহ হাজার হাজার কল-কারখানা বন্ধ। মাত্র এক বছরে ২১ লাখ শ্রমিক কাজ হারায়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৩০ লাখ মানুষ চরম দরিদ্র হয়ে পড়ে। বিপর্যয়ের এই ধারা চলমান।
শিল্পকারখানা বন্ধ করে, কর্মসংস্থান ধ্বংস করে, কৃষকের পেটে লাথি মেরে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, স্বার্থ ও কল্যাণে আওয়ামী লীগ সবসময় আপনাদের পাশে আছে। অবশ্যই এই অন্ধকার সময়কে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনব।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।আঁধার কেটে ভোর হোক শ্রমজীবী মানুষের জয় হোক।
