·
একবার আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার রাস্তায় এক বৃদ্ধ লোক প্রস্রাব করছিলেন, হঠাৎ পুলিশ এসে তাঁকে ধরে তাঁর বাড়িতে নিয়ে আসে। পুলিশের নির্দেশ ছিল, বৃদ্ধের স্ত্রী যেন তাঁর স্বামীর ভালভাবে দেখাশোনা করেন এবং তাঁকে একদম বাড়ির বাইরে বেরোতে না দেন।
আসলে, ওই বৃদ্ধ প্রায়ই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যেতেন, নিজেকেই চিনতে পারতেন না।
স্ত্রী পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং স্নেহভরে স্বামীকে ঘরের ভিতর নিয়ে যান। তিনি বারবার স্বামীকে বোঝাতে থাকেন—
“তোমার নিজের খেয়াল রাখতে হবে। এভাবে না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যেও না। তুমি এখন বৃদ্ধ হয়েছো। তোমার গৌরবময় অতীতকে মনে রাখার চেষ্টা করো। তোমাকে এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে লজ্জা পেতে হয়।”
এই বৃদ্ধ, যাকে রাস্তায় থেকে ধরে আনা হয়েছিল, এক সময় আমেরিকার বিখ্যাত সিনেমা তারকা ছিলেন। মানুষ তাঁর এক ঝলক দেখার জন্য উন্মাদ হয়ে উঠত। তাঁর জনপ্রিয়তার জোরেই তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং একদিন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি — আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হন। তাঁর নাম ছিল রোনাল্ড রেগান।
১৯৮১ সালে রেগান আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হন এবং টানা আট বছর তিনি বিশ্বের ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে রাজত্ব করেন। তাঁর ওপর একবার আততায়ীর গুলি চলেছিল। বহুদিন হাসপাতালে থাকার পর যখন তিনি আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন, তাঁর জনপ্রিয়তা আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়। রেগান ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় নামগুলির একটি।
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রথম দিকে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর আলঝেইমার রোগ ধরা পড়ে। ধীরে ধীরে তিনি স্মৃতি হারিয়ে ফেলতে থাকেন।
শরীর ছিল, স্মৃতি ছিল না। তিনি ভুলে গিয়েছিলেন, কোনো এক সময়ে লাখো মানুষ তাঁর এক ঝলক দেখার জন্য অপেক্ষা করত। তিনি ভুলে গিয়েছিলেন, তাঁর নিরাপত্তা ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান চিন্তা। তিনি ভুলে গিয়েছিলেন, তিনি কে ছিলেন।
একদিন সময় এমন এল, যখন জীবিত থেকেও তিনি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়লেন।
এই ঘটনা আমাদের শেখায়—
সবচেয়ে শক্তিশালী জিনিসেরও এক্সপায়ারি ডেট থাকে।
তাই জীবনে যদি কখনো অহংকার চলে আসে—
ক্ষমতার, টাকার বা শক্তির অহংকার—
তাহলে একবার শ্মশান বা কবর স্থান ঘুরে আসা উচিত।
সেখানে একসময় যারা রাজত্ব করত, যারা সমাজের গৌরব ছিল, তাদেরই ভস্ম বা চিহ্ন পড়ে আছে।
অহংকার অর্থহীন।
ক্ষমতা, অর্থ, কিম্বা বাহুবলের অহংকার—সবই একদিন মাটিতে মিশে যায়।
তিনি **২০০৪ সালের ৫ জুন** ৯৩ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার বেল এয়ারে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল নিউমোনিয়া, তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আলঝেইমার্স (Alzheimer’s) রোগেও ভুগছিলেন।
তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার সিমি ভ্যালিতে অবস্থিত ‘রোনাল্ড রিগান প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি’ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়।
লেখক: রূপালী রয়
