পূর্ব লন্ডনের সুপরিচিত কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও যুব সংগঠক সানু মিয়াকে স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করাই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান দর্শন। কমিউনিটির প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
গত ৮ মে পূর্ব লন্ডনের মাইক্রোবিজনেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় পরিবার-পরিজন, বন্ধু, সহযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটি নেতারা অংশ নেন। ১৯৬৬ সালে জন্ম নেওয়া সানু মিয়া ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবদুল মালিক খোকন এবং সঞ্চালনা করেন স্বাধীন খসরু। শুরুতে সানু মিয়াকে নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মালিক খোকন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সানু মিয়া ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি কমিউনিটি সেবা, অসাম্প্রদায়িক চর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন।
সানু মিয়ার শৈশবের বন্ধু ও শাপলা ইয়ুথ ফোর্সের সদস্য আলী, জয়নাল উদ্দিন, তুরণ মিয়া, হারিস আলী ও জামাল স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত, সাহসী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন একজন মানুষ, যিনি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলর নূরউদ্দিন আহমদ, কবি শামীম আজাদ, লেখক ময়নুর রহমান বাবুল, রাজনীতিবিদ খসরুজ্জামান, সম্প্রচার ব্যক্তিত্ব রবিন হায়দার খান, অ্যাক্টিভিস্ট জামাল আহমেদ খান, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, রাজনউদ্দিন জালাল ও হরমুজ আলীসহ আরও অনেকে।
স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন- সানু মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন পারভীন ও ছেলে তানিম। স্বামীকে স্মরণ করতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পারভীন।
বক্তারা বলেন, সানু মিয়া ছিলেন শাপলা ইয়ুথ ফোর্সের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটির ফুটবল দল বাংলাদেশে গিয়ে সেনাবাহিনী, বিডিআর ও বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন জাতীয় দলের বিরুদ্ধে খেলেছিল। কমিউনিটিভিত্তিক তরুণদের সংগঠিত করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।Tourist Destinations
তাঁরা আরও বলেন, সানু মিয়া যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পাশাপাশি তিনি লেবার পার্টির সক্রিয় কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি এবং একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন আনসার আহমদ উল্লাহ। পরে তিনি সানু মিয়ার মা হামিদা বেগমের হাতে স্মারকগ্রন্থের একটি কপি তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যেও বইটি বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্র চলাকালে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
