চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দেবাশীষ চৌধুরী (৪৫) নামে এক বন্দির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ একে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে দাবি করলেও, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং জেলের ভেতর পরিকল্পিত উপায়ে হত্যার একটি অংশ বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কারা কর্তৃপক্ষ তা দীর্ঘ সময় গোপন রাখে এবং বুধবার (২০ মে) সকালে তা প্রকাশ্যে আনে। তবে এই গোপনীয়তার দেয়াল ভেঙে সোমবার (১৮ মে) রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেবাশীষের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
কারা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন দেবাশীষ চৌধুরী। পরে তাকে দ্রুত কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, অসুস্থ বোধ করার পরপরই দেবাশীষকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক মেডিকেল প্রতিবেদনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা রয়েছে।
উল্লেখ্য, দেবাশীষ চৌধুরী নগরীর কোতোয়ালি এলাকার একটি আশ্রমে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নগরীর সদরঘাট থানায় দায়ের হওয়া ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাভোগ করছিলেন।
বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, একজন সুস্থ মানুষকে জেলের ভেতরে এনে “হৃদরোগ” বা অন্য কোনো বাহানায় সুপরিকল্পিতভাবে খুন করার এই বিশেষ ‘কৌশল বা বিজ্ঞান’ আবিষ্কার হয়েছিল ১৯৭৫-এর পরবর্তী সময়ে। তৎকালীন সময়ে জেলের ভেতরে নির্মম হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক বন্দিদের গায়েব বা নিষ্ক্রিয় করার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান সেই ধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন এবং তা চলমান রাখেন।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ সময় পার হলেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সেই একই চক্রান্তের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বর্তমানে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমানে সরকার প্রধান বিএনপি নেতা তারেক রহমানের যৌথ ইশারায় জেলের ভেতর বন্দিদের ওপর এই একই নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেবাশীষ চৌধুরীর এই রহস্যজনক মৃত্যু এবং মৃত্যুর খবর লুকিয়ে রাখার চেষ্টা সেই ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
