ঢাকা, ২৩ মে ২০২৬: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এক বক্তব্য জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের পেছনে সহিংসতা ও সশস্ত্র আন্দোলনের প্রস্তুতির বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে। অনেকে এটিকে আন্দোলনের মূল সমন্বয়কদের স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখছেন।
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “সহযোদ্ধাদের ওপর ভায়োলেন্স হলে নিজেরাও সেটা বেছে নিতে বাধ্য হবেন। এক্ষেত্রে আমাদের চেয়ে বেশি পারবেন না, সেটা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি।” তিনি হামলাকারীদের রাতের মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানান।
এর আগেও ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় জুলাই আন্দোলন নিয়ে লেখা বইয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, আগস্টে সরকার পতন না হলে তারা সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন।
সহিংসতার জবাবে তৎকালীন সরকারের প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় যে, ছাত্র সমন্বয়কদের আন্দোলনের নামে যে সহিংসতা হয়েছিল, তার কারণেই তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। শুধু সাধারণ জনমানুষের জানমাল রক্ষার জন্য নয়, নিজেদের জীবন রক্ষার প্রয়োজনেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
অথচ ছাত্র সমন্বয়কদের সৃষ্ট এই সহিংসতা মোকাবেলা করতে গিয়ে তৎকালীন সরকার এখন “গণহত্যাকারী” ও “ফ্যাসিস্ট” বলে অভিহিত হচ্ছে।
আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ দাবির আড়ালে সংঘাতময় ও সশস্ত্র পথ বেছে নেওয়ার ফলেই দেশে ব্যাপক অস্থিরতা ও প্রাণহানি ঘটে বলে মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এই বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে সরাসরি সহিংসতার হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং বলছেন, এর মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত চরিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া কে জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধারাই সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ উপদেষ্টা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। উপদেষ্টা থাকা কালীন এবং দায়িত্ব ছাড়ার পরও বিভিন্ন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন এই ছাত্র উপদেষ্টা।
এ বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। অনেকে মনে করেন, আন্দোলনকে যদি সত্যিকারের শান্তিপূর্ণ রাখা হতো, তাহলে এত বড় ধরনের সংঘাত ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
