ঢাকা: চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রাজপথে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগান দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ঢাল হয়ে দাঁড়ানো জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন এবার এক নজিরবিহীন আত্মোপলব্ধি প্রকাশ করেছেন। দেশে চলমান ক্রমাগত ধর্ষণ, নারী নির্যাতন এবং আইনি ও সামাজিক অবক্ষয়ের চরম রূপ দেখে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশায় মুখ খুলেছেন তিনি। বাঁধন সরাসরি স্বীকার করেছেন, জুলাই আন্দোলনে যোগ দেওয়া ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত এবং বর্তমান বাংলাদেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে তিনি নিজেই লজ্জিত ও অনুতপ্ত। সম্প্রতি ‘বেঙ্গলি জার্নাল’-এর বিনোদন ডেস্কের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকের সাথে এক একান্ত ও দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের ভেতরের এই চরম মানসিক যন্ত্রণা ও ক্ষোভ উগরে দেন এই তারকা।
“ভেবেছিলাম সব সমস্যার সমাধান হবে, কিন্তু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ”
সাক্ষাৎকারে দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে নারীদের ওপর পৈশাচিক সহিংসতা নিয়ে কথা বলার সময় বাঁধন তাঁর অতীত অবস্থান এবং বর্তমান হতাশার তুলনা করে বলেন:
“২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আমি একটি বড় স্বপ্ন নিয়ে, বুক ভরা আশা নিয়ে রাজপথে নেমেছিলাম। ভেবেছিলাম স্বৈরাচারের পতন হলে দেশের সকল বৈষম্যের অবসান হবে, নারীরা নিরাপত্তা পাবে, সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর আজ ২০২৬ সালে এসে দেখছি দেশের সমস্যা কমেনি, বরং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ১৯ বছরের মেয়েকে সরাসরি ধর্ষণ করা হচ্ছে, দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হচ্ছে! এই সমাজ, এই স্বাধীনতা তো আমরা চাইনি। আজ অত্যন্ত আক্ষেপ ও বুকভাঙ্গা কষ্ট নিয়ে বলছি— জুলাই আন্দোলনে যোগ দেওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আমি লজ্জিত।”
সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও রাজপথের নায়িকাদের মোহভঙ্গ
জুলাই আন্দোলনের সময় বাঁধন, তিশা, রেদওয়ান রনিসহ প্রগতিশীল সংস্কৃতিকর্মীরা দৃশ্যমাধ্যমের ব্যানারে রাজপথে নেমে আন্দোলনের গতি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ আহমেদের ‘আমেরিকার ডিপ স্টেট ও কিচেন ক্যাবিনেট’ তত্ত্ব ফাঁসের পর এবং মাঠপর্যায়ে মব জাস্টিস ও নারী নির্যাতনের উৎসব শুরু হওয়ায় চব্বিশের কুশীলবদের বড় অংশের মোহভঙ্গ হতে শুরু করেছে।
বাঁধনের এই ‘আমি লজ্জিত’ ডায়ালগটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ ও সেলিব্রেটিরা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়েছিল, বর্তমানের চরম সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় তাদের সেই আশার গুড়ে বালি ঢেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রথম সারির অ্যাক্টিভিস্ট অভিনেত্রীর এই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি জুলাই আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তিকে বড় ধরণের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।
