অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়ঙ্কর খুনে জঙ্গি রূপ; মেলবোর্নে ঘুমন্ত হোস্টকে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে গলার ভেতর ছুরি ঢুকিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক সত্য ঘটনা,
📍 মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া – ২৬ মে, ২০২৬ – 🎙
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশী ছাত্রী মোমেনা শোমার (Momena Shoma) লোমহর্ষক জঙ্গি হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল. কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (IS) দ্বারা চরমভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে একজন বাংলাদেশী তরুণী কীভাবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম অফিশিয়াল সন্ত্রাসী হামলার রায় নিজের নামে লিখে নিয়েছেন, তা আজ আপনাদের বিশদভাবে জানানো হলো.
🎬 কী ঘটেছিল সেই ভয়ঙ্কর দুপুরে? (হামলার মর্মান্তিক বিবরণ):
অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব ইউনিভার্সিটিতে (La Trobe University) মেধা বৃত্তি পেয়ে পড়তে এসেছিলেন ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী মোমেনা শোমা. কিন্তু পড়াশোনা ছিল তার কেবলই একটি বাহ্যিক মুখোশ। মেলবোর্নের উত্তরে মিল পার্কের একটি বাড়িতে হোমস্টে বা পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতে শুরু করেন তিনি. ঘটনার দিন দুপুরে সেই বাড়ির মালিক রজার সিঙ্গারাভেলু (Roger Singaravelu) যখন নিজের ঘরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন শোমা তার রুমে একটি বিশাল ধারালো রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে প্রবেশ করেন.
কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শোমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করতে করতে ঘুমন্ত সিঙ্গারাভেলুর গলার ভেতর ছুরিটি প্রচণ্ড শক্তিতে ঢুকিয়ে দেন. আঘাতটি এতটাই জঘন্য ও জোরালো ছিল যে, সিঙ্গারাভেলুর ঘাড় ফুঁড়ে যখন ছুরিটি বের করা হয়, তখন মাংসের ভেতরেই ছুরির ডগাটি ভেঙে যায়. এই রক্তারক্তি ও নৃশংসতম হামলাটি দাঁড়িয়ে সচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছিল সিঙ্গারাভেলুর মাত্র ৫ বছর বয়সী নিষ্পাপ কন্যাসন্তান. সেই ছোট্ট মেয়েটি আজও সেই ভয়ঙ্কর মানসিক ট্রমা, দুঃস্বপ্ন এবং মানুষকে বিশ্বাস না করতে পারার তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে.
🔻 আক্রমণের পূর্বপ্রস্তুতি ও তোশকে ছুরি চালানোর মহড়া:
গুগল ভেরিফাইড পুলিশি ইনভেস্টিগেশন অনুযায়ী, মোমেনা শোমা কেবল হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই বাংলাদেশ থেকে ছুরি সাথে করে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন. মেলবোর্নে আসার পর প্রথম যে বাড়িতে তিনি উঠেছিলেন (বুন্দুরা অঞ্চলে), সেখানে তিনি নিজের ঘরের তোশকের (Mattress) ওপর অবিরাম ছুরি চালিয়ে মানুষকে কীভাবে নিখুঁতভাবে জবাই করতে হবে, তার রিহার্সাল বা মহড়া দিয়েছিলেন!
প্রথম বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে শোমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে, তিনি জরুরি ভিত্তিতে রজার সিঙ্গারাভেলুর বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন. কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সিঙ্গারাভেলুকে আগের বাড়ির সেই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি সমন্ধে কেউ সতর্ক করেনি.
🔻 আইসিসের চরমপন্থী রেডিক্যালাইজেশন এবং আদালতের রায়:
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, শোমা ২০১৩ সাল থেকেই ইন্টারনেটে আন্তর্জাতিক চরমপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (IS) কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং ২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকে আইসিসের খিলাফত ঘোষণার খবরে চরম উল্লাস প্রকাশ করেন. হামলার দিন সকালেও তিনি আইসিসের মিডিয়া সেন্টার ‘আল হায়াত’ থেকে অত্যন্ত সহিংস জিহাদী ভিডিও ‘ফ্লেমস অফ ওয়ার’ ডাউনলোড করে দেখেছিলেন. গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঠান্ডা মাথায় স্বীকার করেন যে, তিনি কোনো অনুশোচনা ছাড়াই “পশ্চিমা বিশ্বকে উস্কে দিতে” এবং একজন অমুসলিমকে হত্যা করে তথাকথিত “শহীদ” হতে এই মিশন বেছে নিয়েছিলেন.
ভিক্টোরিয়ান সুপ্রিম কোর্টের জাস্টিস লেসলি টেইলর এই ঘটনাকে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম কাপুরুষোচিত ও ঠাণ্ডা মাথার সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়ে মোমেনা শোমাকে সর্বোচ্চ ৪২ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড প্রদান করেন. আইনের কড়া ধারার কারণে ২০৫০ সালের আগে তার কোনো প্রকার প্যারোলের (সাময়িক মুক্তি) আবেদন করার যোগ্যতা থাকবে না.
📅 কবের ঘটনা এবং কেন এটি আজ আবার আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করা হলো?
জাহিদ ভাই, এই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি মূলত ঘটেছিল **২০১৮ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি** এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন সুপ্রিম কোর্ট এই ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত রায়টি ঘোষণা করে **২০১৯ সালের ৫ই জুন**.
অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজ (ABC News), রয়টার্স ও সিএনএন-এর মতো বিশ্বের বাঘা বাঘা ইন্টারন্যাশনাল নিউজ চ্যানেলগুলো এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাভার করলেও, অবাক করার মতো বিষয় হলো—আমাদের দেশীয় বাংলাদেশী মূলধারার নিউজ চ্যানেলগুলোতে এই মেগা ইনভেস্টিগেশনের পুরো সত্য এবং ভেতরের হাড়হিম করা তথ্যগুলো সেভাবে কখনো বিশদভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়নি।
📂 Verified Official International News Sources: 🌐
📍 ১. ABC News Australia – “Momena Shoma sentenced to 42 years jail for terrorist attack on homestay host Roger Singaravelu”.
📍 ২. Supreme Court of Victoria (Melbourne) – Official Sentencing Judgment Dossier of The Queen v Momena Shoma.
📍 ৩. Australian Federal Police (AFP) – Counter-Terrorism Command Archive Cases.
(Writer: Jahid Hasan Emon from Italy. May 26, 2026 )
