ভোলার রাজনৈতিক অভিভাবক ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে দ্বীপ জেলা ভোলা এখন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জানাজা প্রতিহত করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে ভোলার সরকারি স্কুল মাঠে জানাজাস্থলে অবস্থান নিয়েছে জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় পুরো শহরে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে ভোলার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকেই লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জানাজাস্থলে এবং এর আশেপাশে অবস্থান নিতে শুরু করেন যুবদল ও ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক কর্মী। তারা তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন এবং কোনোভাবেই জানাজা হতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।
এর আগে জেলা যুবদল সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটনের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নেতাকর্মীদের সকাল ১১টার মধ্যে মাঠে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেন এবং জানাজা প্রতিহত করার ডাক দেন। সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হিসেবেই আজ সকাল থেকে যুবদলের এই অবস্থান বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তোফায়েল আহমেদের অনুসারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক প্রবীণ নাগরিক মন্তব্য করেছেন যে, একজন মৃত ব্যক্তির জানাজা নিয়ে এমন রাজনীতি ও প্রতিহিংসা ভোলার ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু শেষ বিদায়ের আচারে বাধা দেওয়া চরম ধর্মীয় ও সামাজিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে যুবদলের মারমুখী অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত জানাজা যথাসময়ে বা ওই স্থানে অনুষ্ঠিত হতে পারবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তোফায়েল আহমেদের অনুসারীরা অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসনের নাকের ডগায় একদল উগ্রবাদী শক্তি জানাজা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোলার সাধারণ মানুষ ও সচেতন সমাজ এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং একজন বর্ষীয়ান নেতার শেষ বিদায় সম্মানজনকভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
