তৌহিদুল ইসলাম
শেখ হাসিনা একই সঙ্গে বহু মাঠে খেলছেন, তবে এটাও বোঝা যাচ্ছে যে দেশের ভেতরে, বাইরে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তাঁর শত্রুরাও বসে নেই। কেউ বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন কেউ দেশের ভিতরেই নিজেরাই যাচাই করে দেখতে চাইছেন যে শেখ হাসিনা আদৌ দেশে ফিরতে পারবেন কি পারবেন না! মজার ব্যাপার হলো লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদেরকে উত্তরও দিয়ে দিয়েছে মুখের উপর! এবার হয়তো তাদেরও পালানোর পথ খুঁজতে হবে!
ভারতীয় গণমাধ্যম The Wall কে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা মূলত একটি রাজনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন! তিনি বলেছেন -তিনি ফিরবেন,লড়বেন, মরতে হলে মরবেন! এই বক্তব্যকে অনেকে আবেগ হিসাবে দেখছেন কিন্তু আবেগ নয় এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা -এটির অর্থ হলো শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করেননি, আওয়ামীলীগ আত্মসমর্পণ করেনি, শেখ হাসিনা পালায় নি! বরং দুই বছরের দমন, পীড়ন এর পর তারা নুতন কৌশলে ফিরে এসেছে, ফিরে আসছে!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারবে আবার একই সঙ্গে বলছে তাঁকে ট্রাভেল পাস দেয়া হবে না! আবার ভারতকে অনুরোধ করা হবে তাকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসাবে ফিরে পাঠাতে! প্রশ্ন হচ্ছে যদি তিনি এতটাই অজনপ্রিয় হন, যদি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে তবে তাঁর ফেরা ঘিরে এত উদ্বেগ কেন? কেনো তাঁর দেশে ফেরার পথ আটকে রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এত ব্যস্ততা? এর উত্তর খুব সোজা, কারণ তারা জানে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ নুতন পর্যায়ে চলে যাবে!
আর এই ভয় শুধু আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষের নয়। বিএনপির ভিতর থেকেও সেই ভয় প্রকাশ্যে বের হয়ে আসছে! বিএনপির সাবেক নেতা রুমিন ফারহানা বলেছেন শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা বিএনপির নেই! এরচেয়ে বড় স্বীকারোক্তি বা রাজনৈতিক সত্য আর কি হতে পারে? একজন সাবেক বিএনপি নেতা কার্যত বলে দিলেন যে শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য রাজনৈতিক ভূমিকম্পের সমান।
কিন্তু শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় চালটি দেশের ভেতরে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে! এতদিন আন্তর্জাতিক মহলে এক তরফাভাবে একটি বয়ান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলা হয়েছিলো জুলাই এর তথাকথিত গণ অভ্যুত্থান ছিলো জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব- বলা হয়েছিলো ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে- বলা হয়েছিলো শেখ হাসিনা গণহত্যার নির্দেশ দাতা! সেই বয়ানকে কেন্দ্র করেই আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা, বিচার এবং রাজনৈতিক বৈধতার খেলা চলেছে এতদিন! এখন সেই জায়গাতেই আঘাত করেছে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা!
শেখ হাসিনার বৃটিশ আইনজীবী স্টিভেন পাউল জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন- তিনি প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের সংখ্যা নিয়ে, তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে, তথ্য যাচাই এর মান নিয়ে, এমনকি পুরো অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও, অর্থাৎ আওয়ামী লীগ আর আত্মপক্ষ সমর্থনের অবস্থানে নেই তারা এখন অভিযোগকারীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে! এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ ২৪শের তথাকথিত গণঅভ্যুত্থানে আন্তর্জাতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন নুতন নয়!
জাতিসংঘের ঢাকাস্থ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, ভারতীয় বংশোদ্ভূত হুমা খান- যিনি এই পূর্ণ নাটকটি সাজিয়েছেন এবং পুরো তথ্য দিয়ে এবং বাংলাদেশের শেখ হাসিনার সরকারের পতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। সব বিষয়ে প্রশ্ন তুলে এখন আওয়ামীলীগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সুরাহা চাইছেন অর্থাৎ এখন শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের আদালতের বিরুদ্ধে লড়ছেন না, তিনি আন্তর্জাতিক বয়ানের বিরুদ্ধেও লড়ছেন। এখানেই আওয়ামীলীগের বর্তমান রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি!
