আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ দখলদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গংদের ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গণগ্রেপ্তার, হয়রানিমূলক মামলা এবং বিরোধী রাজনৈতিক মত ও আদর্শের অনুসারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক কর্মকাণ্ড ক্রমেই বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপ্র অবিচার করে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি হলো প্রত্যেক নাগরিকের সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা। বিচারিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে বা দীর্ঘসূত্রিতার মাধ্যমে কোনো নাগরিককে অনির্দিষ্টকাল কারান্তরীণ রাখা মানবাধিকার ও সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থী।
এমতাবস্থায়, আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি—
১) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সকল ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। গণহারে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও জনগণকে গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে।
২) রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও সংগঠনের অধিকারের ওপর সংবিধান পরিপন্থী সকল ধরনের বাধা ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
৩) বিচারবহির্ভূত দমনপীড়ন, গণগ্রেপ্তার, কারান্তরীণ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে হবে।
৪) সকল রাজবন্দি ও বিনা বিচারে কারান্তরীণ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
৫) সাংবিধানিক আইনের ধারাবাহিকতায় দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আজ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির লেশমাত্র নেই। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা তো দূরের কথা জীবনের নিরাপত্তাই সুদূরপরাহত। মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে, রাজনৈতিক বিভাজনের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় না।আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই পারে সকল সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ এবং দানবীয় দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে। এর ব্যতয় ঘটলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে, ইনশাল্লাহ।
অবৈধ আইসিটি ট্রাইব্যুনাল বাতিল, ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে আগামীকাল ১৩ই জুন ‘রাজবন্দি মুক্তি দাবি দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে আগামীকাল ১৩ই জুন মিথ্যা,ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে দেশে-বিদেশে আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একই প্রোফাইল পিকচার ব্যবহার করবে।
*** সাংগঠনিক জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মরহুম/প্রয়াত, নিহত, ঘরছাড়া, কারাবন্দি নেতাকর্মীদের ও তাঁদের পরিবারবর্গের খোঁজখবর নেওয়া।
*** সহযোগী সংগঠনসমূহের উদ্যোগে দেয়াল লিখন, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক
