৩০০ শিল্পীর পরিবেশনায় চারুকলার বকুল তলায় অনুষ্ঠিত হলো ‘ঘনঘটা’ বর্ষা উৎসব। ১৭ জুলাই এ আয়োজন ছিল চিত্তাকর্ষক।
বাংলায় বর্ষা, বসন্ত বা নববর্ষ উদযাপন একটি ধর্মনিরপেক্ষ সার্বজনীন উৎসব; ভাষা, ভূগোল ও সংস্কৃতিনির্ভর ঐতিহ্য। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নাস্তিক – সব বিশ্বাসের মানুষ ঐতিহাসিকভাবে এই ঋতুচক্রের অভিজ্ঞতার অংশ। এ কারণে বর্ষা বরণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রকাশ। এমনকি এই অনুষ্ঠান আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সাথে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সংহতির উপলক্ষ্য হতে পারে।
মার্ক্সবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে, সংস্কৃতি কেবল বিনোদন নয়; এটি সামাজিক সম্পর্ক, উৎপাদনব্যবস্থা এবং মতাদর্শের সঙ্গেও যুক্ত। সে দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ষা উৎসব একদিকে কৃষিভিত্তিক জীবনযাত্রার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার বহন করে, অন্যদিকে আধুনিক সমাজে এটি জাতীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক প্রকাশ, আগ্রাসন বিরোধিতা, বহুত্ববাদ এবং জাতীয় পরিচয় প্রশ্নের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
যে কোন সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ হতে পারে। কেউ এই ধরনের আয়োজনের পেছনে, রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল বা বিশেষ প্রতিষ্ঠানের ‘এজেন্ডা’ নিয়ে প্রশ্ন করতেই পারেন, কিন্তু তাতে এই ধরনের অনুষ্ঠানের জাতীয় ‘সাংস্কৃতিক চরিত্র’ বদলে যায় না। ফলে, এই ধরনের অনুষ্ঠান নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ প্রচার চূড়ান্ত বিচারে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তির সেবা করে। যাইহোক, সব মিলিয়ে, বাঙালি সংস্কৃতিতে বর্ষা বরণ ও বৃষ্টিতে নৃত্য কেবল ঋতু পরিবর্তনের আনন্দ নয়; এটি প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান, কৃষিসভ্যতার স্মৃতি, শিল্প-সাহিত্যের বিকাশ, অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জনপরিসরে সংস্কৃতির ভূমিকার বহুমাত্রিক প্রকাশ।
