ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়সীমা বাড়ার তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি মেগা প্রকল্প। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে অতিরিক্ত ৯ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অনুমোদন পেলে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা।
এতে ব্যয়ের দিক থেকে প্রকল্পটি পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রকল্পের মেয়াদও আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২২শে জুলই, বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যহ্রাস, অতিরিক্ত প্রকৌশল কাজ, নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং কর-ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০১৭ সালে প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। পরে ২০২২ সালে প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা, যা প্রাথমিক অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি।
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যয় বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো টাকার অবমূল্যায়ন। প্রথম সংশোধনীতে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ধরা হয়েছিল ৮৬ টাকা। বর্তমানে সেই হার বেড়ে ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা হওয়ায় শুধু বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণেই প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রায় ৩৯ শতাংশই এসেছে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে।
এ ছাড়া নকশা পরিবর্তন ও অতিরিক্ত প্রকৌশল কাজের জন্য আরও ১ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ব্যয় যুক্ত হয়েছে। তুরাগ নদের নাব্যতা পরিবর্তনের কারণে সেতুর উচ্চতা ও নকশা সংশোধন, ভবিষ্যৎ রেল ট্রানজিট করিডোরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পিয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি, বাইপাইলে নতুন ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ এবং বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের জন্য অতিরিক্ত র্যাম্প নির্মাণও এই ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে জমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং কর-ভ্যাট বৃদ্ধির কারণেও অতিরিক্ত ৩ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা ব্যয় যোগ হয়েছে।
প্রকল্পটি মূলত ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে অর্থায়ন চূড়ান্ত করতে দীর্ঘ সময় লাগা, কোভিড-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং একাধিক নকশা পরিবর্তনের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।
সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুই বছরের ডিফেক্ট লাইয়াবিলিটি পিরিয়ডও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
