সাইদ মজুমদার
বীর চট্টলার কৃতী সন্তান শিল্পপতি সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আদ্যাপান্ত তুলে ধরা দরকার। না তুলে ধরলে মানুষের ভুল ধারণাই সত্য হয়ে যাবে, কিংবা যাচ্ছে।
পাকিস্তান আমল নয় বৃটিশ আমল থেকেই ওনারা রাজকীয় জীবনযাপনে অভ্যাস্ত, সামান্য টাকার কোট টাই ঘড়ি নিয়ে কত হৈ চৈ। আসলে সাংবাদিক নামের চুনুপুটি আদার বেপারি হয়ে জাহাজ এর খবর নিচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এসব আজগুবি নিউজ, হাস্যকর মামলা অনেক পুরানো।
নিশ্চয় সবার কম বেশি মনে আছে, শিল্পপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর কথা, যাকে বিএনপি জামাত সরকার ফেরি থেকে ঘড়ি ও প্লেট চুরির মামলা দিয়ে গ্রেফতার করেছিলো!
বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সাহেবকে নিয়ে কিছুদিন পরপর ফরমায়েসী নিউজ করে মিডিয়াগুলো !!
অথচ এই মিডিয়াগুলো কখনোই তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য বা বাংলাদেশের ব্যবসা জগতে তাদের পরিবারের ইতিহাস তুলে ধরেনা !!!
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বাবা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।
তিনি ১৯৬১-৬২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনাকালীন সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে শিক্ষা বৃত্তি নিয়ে পড়তে যান। যা তৎকালীন সময়ে তোদের এই প্রজন্মের স্বপ্ন থেকেও বড় কিছু ছিলো। পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়েও ব্যবসা প্রশাসনে পড়াশোনা করেন।
আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ব্যবসা শুরু করেন ১৯৬৫ সালে, স্বাধীনতার আগেই চট্টগ্রাম নগরীর বাটালি রোডে রয়েল ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করেন।
এরপর একেএকে আসিফ স্টিল মিল, জাভেদ স্টিল মিল, আসিফ সিনথেটিক, প্যান আম বনস্পতি, আফরোজা অয়েল মিল, বেঙ্গল সিনথেটিক প্রোডাক্টসহ কয়েকটি বড়বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
সেইসাথে ১৯৬৯ সালে তিনি তার ব্যবসার প্রসার করে লন্ডনে ৭টা বাড়ির মালিক হন, যা তোদের বাপ দাদারাও কল্পনা করে কিনা সন্দেহ আছে?
এছাড়া তিনি জামান শিল্প গোষ্ঠী ও বিদেশি মালিকানাধীন আরামিট মিল ক্রয় করেন এবং পরবর্তীকালে আরামিট গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন।
আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ওআইসিভুক্ত দেশের চেম্বারের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যা বর্তমান সময়ে বাংলাদেশিদের জন্য স্বপ্ন হিসেবে ভাবতে হয়।
স্বাধীনতা বিরোধীদের ওনাকে নিয়ে জ্বলার প্রধান কারন তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অসহযোগ আন্দোলনের সময় ওনার পাথরঘাটা জুপিটার হাউস থেকে সংগ্রাম কমিটির কর্মকাণ্ড পরিচালিত করতেন।
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রামে আসার পর ওই হাউস থেকেই সাইক্লোস্টাইল করে প্রচার করা হয়। তার বাসা থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ সব জায়গায় পাঠানো হতো।
তাছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূল এলাকায় জাহাজভাঙা শিল্প নিয়ে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে যে গর্বটা করে, সেই গর্বের অন্যতম উদ্যোগ ও বিনিয়োগ ছিল এই জাবেদ পরিবারের।
বিদেশি পুরোনো জাহাজ আমদানি করে তা ভেঙে লোহা–ইস্পাত ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ পুনর্ব্যবহার করা হতো, বাংলাদেশে আজকের দিনেও ইস্পাত শিল্পের কাঁচামালের একটি বড় অংশ আসে এই খাত থেকে।
আজকের যেই গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে তোদের এত উল্লাস, সেই গার্মেন্টস শিল্পেরও অন্যতম অবদান এই আখতারুজ্জামান চৌধুরীর পরিবারের।
যেই পরিবারের ১৯৬৯ সালের সময়ও লন্ডনে ৭টা বাড়ির মালিক, তাদের আজকের দিনে ৫ হাজার বাড়ি হলেও তো অস্বাভাবিক কিছু না?
অস্বাভাবিক কিছু তখন হতো, যখন বাংলাদেশের টাকা অবৈধভাবে আয় করে বিদেশে বাড়িঘর করতেন।
আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক প্রাণ ছিলেন, পার্টি ফান্ডের সিংহভাগ টাকা এই আখতারুজ্জামান চৌধুরী দিতেন। কিন্তু দল থেকে এমপি বাদে কখনোই মন্ত্রীত্ব পাননি। কারন ছিলো যাতে দল বদনামী না হয়। মন্ত্রীত্ব পেলে বলা হইতো দেশের টাকা অবৈধভাবে পাচার করে এত কিছু করেছেন।
কিন্তু উনার সন্তান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়ীত্ব পাওয়ার পর থেকেই ওনার নামে নানা কুরুচিপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করা হয়। অথচ আজ পর্যন্ত কোনো অর্থ অনৈতিকভাবে পাচার করেছেন, তার কোনো রেকর্ড বা প্রমাণ নেই।
একদা এই ভুমি মন্ত্রণালয় ছিলো বাংলাদেশের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ভুমি মন্ত্রণালয়কে করেছেন ডিজিটালাইজেশন। যাতে ভুমি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বন্ধ হয়। যে মানুষ ভূমি মন্ত্রণালয়কে করেছেন দূর্নীতিমুক্ত, এখন ওনাকেই দেওয়া হয় দুর্নীতির তকমা। অথচ তিনি দুর্নীতি করার কোন প্রমাণ আজ পর্যন্ত নেই।
বিঃদ্রঃ যেই ভয়ে আক্তারুজ্জামান চৌধুরী মন্ত্রীত্ব পাননি, বর্তমান সময়ে সেই ভয়টাকে পুজি করে ওনার সন্তান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে দেওয়া হয় দুর্নীতিবাজের তকমা।
